বিজ্ঞাপন

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. কবির হোসেন জানান, ২০১৭ সালের ২ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বেঙ্গল সাইন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির ডিজিটাল এক্স–রে মেশিন বসানো হয়। প্রায় ছয় মাস এই মেশিন দিয়ে কাজ চলে। তারপর থেকে মেশিনটি প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মেশিনটির পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি থাকলেও কোম্পানি তার চুক্তি অনুযায়ী কোনো মেরামত করে দেয়নি। একাধিকবার ওই কোম্পানিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিঠি দিয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।

সরেজমিনে রেডিওলজি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, কক্ষটির দেয়ালের প্লাস্টার উঠে গিয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় এক্স–রে মেশিনটির ওপর ধুলার আস্তর পড়ে রয়েছে। মেশিনটি সচল না থাকায় রোগীদের হাসপাতালের বাইরের বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল থেকে অধিক অর্থ ব্যয় করে এক্স–রে করতে হচ্ছে।

শহিদুল ইসলাম নামের এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘জেনারেল হাসপাতালে এ পর্যন্ত চারবার রোগী নিয়ে এসেছি। মেশিন অকেজো থাকায় বাইরে থেকে এক্স–রে করাতে হয়েছে। রোগীকে বাইরের ক্লিনিকে নিয়ে গেলে রোগীরও কষ্ট হয়, সঙ্গে থাকা স্বজনদেরও ভোগান্তি পোহাতে হয়।’

সাবালিয়া এলাকার মনিরুল ইসলাম জানান, গত মাসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তাঁর এক আত্মীয়ের ডান পা ভেঙে যায়। হাসপাতালে নিয়ে এলে এক্স–রে করাতে বলা হয়। কিন্তু হাসপাতালে এক্স–রে মেশিন অকেজো থাকায় পাশের ক্লিনিক থেকে দ্বিগুণ টাকা দিয়ে করাতে হয়েছে। হাসপাতালের বাইরে ট্রলিতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় রোগীর অনেক কষ্ট ও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শফিকুল ইসলাম জানান, ডিজিটাল এক্স–রে মেশিনটি চালু থাকলে দেড় থেকে ২০০ টাকায় রোগীরা এক্স–রে করতে পারতেন। কিন্তু এটি অকেজো থাকায় বাইরে থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় এক্স–রে করতে হচ্ছে। এর বাইরেও বাড়তি যাতায়াত খরচ হচ্ছে।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক খন্দকার সাদেকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের ডিজিটাল এক্স–রে মেশিনটি অকেজো। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ সরবরাহকারী কোম্পানিকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিরও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন