default-image

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় ছাতারদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলতাব হোসেন ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে স্থানীয় এক সাংবাদিককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে ওই সাংবাদিক আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগী ওই সাংবাদিকের নাম মো. খলিলুর রহমান। তিনি দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারের সিংড়া উপজেলা প্রতিনিধি। সরকারি ঘর বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ করায় তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

শুনানি শেষে পাওটা বাজারে ওই সাংবাদিককে প্রকাশ্যে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন চেয়ারম্যান আলতাব হোসেন। এর জের ধরে আজ দুপুরে উপজেলার একডালা বাজারে খলিলুর রহমানকে দেখতে পেয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান চেয়ারম্যান ও তাঁর লোকজন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মুজিব বর্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পুনর্বাসনে দুর্যোগসহনীয় গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সিংড়া উপজেলার ১১ নম্বর ছাতারদীঘি ইউপি চেয়ারম্যান আলতাব হোসেন ইউএনওর কাছে ওই ইউনিয়নের ৬০ জন ভূমিহীনের তালিকা জমা দেন। নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের সাংসদ ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদের নির্দেশে গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় ছাতারদীঘি ইউপি কার্যালয়ে ভূমিহীনদের বরাদ্দকৃত ঘরের তালিকার ব্যাপারে গণশুনানি করেন ইউএনও এম এম সামিরুল ইসলাম। এ সময় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ঘর বরাদ্দে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেন সাংবাদিক মো. খলিলুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

শুনানি শেষে পাওটা বাজারে ওই সাংবাদিককে প্রকাশ্যে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন চেয়ারম্যান আলতাব হোসেন। এর জের ধরে আজ দুপুরে উপজেলার একডালা বাজারে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কার্যালয়ের সামনে খলিলুর রহমানকে দেখতে পেয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান চেয়ারম্যান ও তাঁর লোকজন। তাঁকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করেন।

গণশুনানিতে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যান আলতাব হোসেনের নির্দেশে তাঁর লোকজন আমাকে কিলঘুষি মেরে আহত করেছেন। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
খলিলুর রহমান, ভুক্তভোগী সাংবাদিক

এ বিষয়ে সাংবাদিক খলিলুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘গণশুনানিতে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যান আলতাব হোসেনের নির্দেশে তাঁর লোকজন আমাকে কিলঘুষি মেরে আহত করেছেন। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

ইউপি চেয়ারম্যান আলতাব হোসেন খলিলুরের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ওই সময়ে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিতই ছিলাম না। আমাকে হেয় করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।’

ইউএনও এম এম সামিরুল ইসলাম সাংবাদিক খলিলুর রহমানের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন