default-image

গত ২৮ মার্চ হেফাজতের হরতালে নারায়ণগঞ্জে নাশকতা ও সহিংসতা সৃষ্টির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি কাউসার আহম্মেদসহ (৩৪) তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন হেফাজতের কর্মী মোয়াজ্জেম হোসাইন (৫৮) ও রাশেদুজ্জামান (২৪)। আজ শনিবার ভোরে ও দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তার কাউসার সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি চৌধুরীবাড়ি এলাকার মৃত আবদুর রহমানের ছেলে। মোয়াজ্জেম একই থানার মিজমিজি বাতেনপাড়া এলাকার আইয়ুব আলীর ছেলে এবং রাশেদুজ্জামান সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে।

এর আগে গত মঙ্গলবার একই ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনকে আটক করে র‍্যাব-১১। কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক কমিটির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি বর্তমানে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা ছবি সংগ্রহ ও ভিডিও পর্যালোচনা করে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামি রাশেদুজ্জামানকে হরতালের দিন তাঁর পরনের কাপড়চোপড় দেখে শনাক্ত করে শিমরাইল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সহিংসতায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
মশিউর রহমান, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), সিদ্ধিরগঞ্জ থানা
বিজ্ঞাপন

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, হেফাজতে ইসলামের হরতালে রাজনৈতিক সহিংসতায় করা মামলায় আজ ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা ছবি সংগ্রহ ও ভিডিও পর্যালোচনা করে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওসি বলেন, আসামি রাশেদুজ্জামানকে হরতালের দিন তাঁর পরনের কাপড়চোপড় দেখে শনাক্ত করে শিমরাইল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সহিংসতায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ নিয়ে হরতালের ওই সহিংস ঘটনায় সিটি কাউন্সিলরসহ মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব ও পুলিশ।

২৮ মার্চের হরতালে পুলিশ-হেফাজতের দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশ-সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন দুজন। ওই দিন আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ১৮টি গাড়ি। ভাঙচুর করা হয়েছে গণমাধ্যমের দুটি গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্সসহ শতাধিক যানবাহন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তিন কিলোমিটার এলাকা সংঘর্ষকালে নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ ওই দিন শটগান, টিয়ারশেল ও চাইনিজ রাইফেল থেকে ৪ হাজার ২০০টি গুলি ছুড়েছে। এতে পুলিশের ৯ সদস্য আহত হয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই ঘটনায় পরদিন ২৯ মার্চ রাতে পুলিশ বাদী হয়ে পাঁচটি এবং র‍্যাব বাদী হয়ে একটি মোট ছয়টি মামলা করে। ওই ৬ মামলায় ১৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২ হাজার ৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় বিএনপি-জামায়াত-হেফাজতের নেতা-কর্মীদের আসামি করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন