default-image

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছাব্বির হোসেন (১৪) নামের এক মাদ্রাসাছাত্রকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ শুক্রবার দুপুরে রসুলবাগ মাঝিপাড়া রওজাতুল উলম মাদ্রাসা থেকে তিন শিক্ষক ও চার ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে।

ছাব্বির ওই মাদ্রাসায় হিফজ বিভাগে পড়ত। এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে নিহত ছাব্বিরের বাবা জামাল হোসেন বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। তিনি রূপগঞ্জ উপজেলার বরপা এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের দাবি, ছাব্বিরকে হত্যার পর এ ঘটনা আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মাদ্রাসার শিক্ষক শওকত হোসেন (২৬), জোবায়ের আহম্মেদ (২৬) ও আবদুল আজিজ (৪২) এবং মাদ্রাসাছাত্র ছাব্বিরের সহপাঠী শামীম আহমেদ (১৬), মাহমুদুল হাসান (১৬), আবু তালহা (১৫) ও আবু বক্কর (১৬)।

বৃহস্পতিবার মাদ্রাসা থেকে অজ্ঞাতনামা এক হুজুর নিহত ছাত্রের বাবা জামাল হোসেনকে ফোন করে ছাব্বিরের মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশকে না জানানোর পরামর্শ দেন। ওই ফোনের পর নিহতের পরিবারে ছাব্বিরের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত বছরের নভেম্বর থেকে ছাব্বির হোসেন রসুলবাগের রওজাতুল উলুম মাদ্রাসায় আবাসিক ছাত্র হিসেবে থেকে পড়ালেখা করতে আসে। ১০ মার্চ বেলা ১১টার দিকে মাদ্রাসার শিক্ষক জোবায়ের ছাব্বিরের পরিবারকে জানান, ছাব্বির মাদ্রাসার ছাদে ওঠার সিঁড়ির পাশে ফাঁকা রডের সঙ্গে গলায় গামছা দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরে তার স্বজনেরা এসে পুলিশে কোনো অভিযোগ না দিয়ে মাদ্রাসা থেকে লাশ নিয়ে রূপগঞ্জে নিজ এলাকায় দাফন করেন। কিন্তু দাফনের আগে লাশের গোসলের সময় নিহতের শরীরে, ঠোঁটে, মাথার ডান দিকে কপালের ওপর আঘাতের চিহ্নসহ গালায় রশির দাগ দেখতে পান লোকজন। বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জানায় পরিবার।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ আরও জানায়, বৃহস্পতিবার মাদ্রাসা থেকে অজ্ঞাতনামা এক হুজুর নিহত ছাত্রের বাবা জামাল হোসেনকে ফোন করে ছাব্বিরের মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশকে না জানানোর পরামর্শ দেন। ওই ফোনের পর নিহতের পরিবারে ছাব্বিরের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়, হত্যাকাণ্ড। ছাব্বিরকে মাদ্রাসার শিক্ষক অথবা তাঁদের সহযোগীরা হত্যা করে এটিকে আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য লাশ গামছা দিয়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেন এবং সেই মতো তাঁরা ছাব্বিরের পরিবারকে খবর দেন। বিষয়টি আত্মহত্যা মনে না হওয়ায় পরিবার বিষয়টি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা-পুলিশকে জানালে রাতে পুলিশ সাতজনকে আটক করে।

নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। নিহতের লাশ আদালতের অনুমতি নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করা হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মশিউর রহমান, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), সিদ্ধিরগঞ্জ থানা

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, গত বুধবার মাদ্রাসাছাত্র সাব্বির আত্মহত্যা করেছে বলে খবর পেয়ে স্বজনেরা লাশ নিয়ে দাফন করেছেন। পরে সাব্বির আত্মহত্যা করেনি, তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলায় ওই মাদ্রাসার তিন শিক্ষক, চার ছাত্রসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। নিহতের লাশ আদালতের অনুমতি নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করা হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিন শিক্ষককে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বলেন, মাদ্রাসাশিক্ষক তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সহপাঠী চার মাদ্রাসাছাত্রকে গাজীপুর কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন