বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আইনজীবীরা বলেন, গতকাল রোববার একই আদালতে মামলার তিন আসামির (এপিবিএন সদস্য) পক্ষে সর্বশেষ যুক্তি উপস্থাপন করেন সিনিয়র আইনজীবী মো. জাকারিয়া ও শামসুল হুদা। বিকেলে শুরু হয় টেকনাফের তিন গ্রামবাসীর যুক্তি উপস্থাপন। সময়ের অভাবে তখন পুরোপুরি যুক্তি উপস্থাপন সম্ভব হয়নি। আজ সকালে তিন গ্রামবাসীর পক্ষে অসমাপ্ত যুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে। ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মামলার অবশিষ্ট নয় আসামির (সবাই পুলিশের সদস্য) পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করবেন আইনজীবীরা।

আইনজীবীরা বলেন, গতকাল সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আসামিদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল আলম। তাঁকে সহায়তা করেন হাইকোর্টের আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান, কক্সবাজার আদালতের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ মোস্তফা, জিয়াউদ্দিন, মোজাফফর আহমদ হেলালী, এসমিকা সুলতানা প্রমুখ।

পিপি ফরিদুল আলম আদালতকে বলেন, বরখাস্ত ওসি প্রদীপের নেতৃত্বেই সিনহাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবির পাশাপাশি তিনি প্রদীপসহ অন্য পুলিশ সদস্যদের রাষ্ট্রীয় পদক (পিপিএম-বিপিএম) প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যদিকে আসামিপক্ষের দুই আইনজীবী মো. জাকারিয়া ও শামসুল হুদা বলেন, সিনহা হত্যাকাণ্ডে তাঁদের মক্কেলরা কোনোভাবে জড়িত নন। উদ্দেশ্যমূলকভাবেই তাঁদের মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মামলার ৮৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মামলার ১৫ আসামির সাফাই সাক্ষ্য (ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় ‘আসামি পরীক্ষা’) হয়ে গেছে। ১২ জানুয়ারি টানা চার দিনের এই যুক্তিতর্ক শেষ হলে চলতি মাসের মাঝামাঝিতে সিনহা হত্যা মামলার রায় জানতে পারবেন দেশের মানুষ।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি (টেকনাফে দুটি ও রামুতে একটি) মামলা করে। ঘটনার পাঁচ দিন পর, অর্থাৎ ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ নয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। চারটি মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় র‍্যাব।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন