বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শহিদুলের জবানবন্দি নিচ্ছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল আলমসহ তিনজন আইনজীবী। আদালত পরিচালনা করছেন জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলে শহিদুল ইসলামকে জেরা করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। সাক্ষ্য গ্রহণের সময় আদালতের কাঠগড়ায় আছেন বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ১৫ জন আসামি।

আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর আগে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের পিপি ফরিদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, আজ দ্বিতীয় দফার চতুর্থ দিনে সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির হয়েছেন তিনজন সাক্ষী। প্রথমজনের জবানবন্দি ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরা শেষ হলে আরেক সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হতে পারে। এর আগে এই মামলায় সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে মাত্র পাঁচজন সাক্ষীর। আসামিপক্ষের অন্তত ১৩ জন আইনজীবী জেরা করায় সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। এই মামলার মোট সাক্ষী ৮৩ জন।

আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলার ৮ নম্বর সাক্ষী হাফেজ মো. আমিন। তিনি বলেছেন, ঘটনার সময় তল্লাশিচৌকির পাশে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে সিনহা মাটিতে (সড়কে) পড়ে ছটফট করছিলেন। প্রাণ বাঁচানোর জন্য পানির জন্য আকুতি জানাচ্ছিলেন। সিনহার বুকে কয়েকবার লাথি মারেন লিয়াকত আলী। পা দিয়ে মাথা চেপে ধরেন তিনি।

এর কিছুক্ষণ পর টেকনাফের দিক থেকে সাদা মাইক্রোবাস নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান প্রদীপ কুমার দাশ (টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি)। তখনো সিনহা জীবিত ছিলেন এবং পানি চাচ্ছিলেন। ওসি প্রদীপ তখন লাথি মারেন এবং পা দিয়ে গলা চেপে ধরে সিনহার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

আজ সকাল সাড়ে নয়টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জেলা কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে আদালত প্রাঙ্গণে আনা হয় প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলীসহ ১৫ জন আসামিকে। এরপর তাঁদের নেওয়া হয় আদালতে। এর আগে আদালতে হাজির হন মামলার তিনজন সাক্ষী।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি (টেকনাফে দুটি, রামুতে একটি) মামলা করে। ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। চারটি মামলারই তদন্তের দায়িত্ব পায় র‌্যাব।

২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও র‌্যাব-১৫ কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মো. খাইরুল ইসলাম। এতে ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন