default-image

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে বুধবার কক্সবাজার কারাফটকে গেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির সদস্যরা। চার দফায় ১৫ দিনের রিমান্ড শেষে প্রদীপ এখন কক্সবাজার কারাগারে আছেন।

কক্সবাজার কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক মো. মোকাম্মেল হোসেন বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা কারাগারে পৌঁছান।

বিজ্ঞাপন

এই তদন্ত কমিটির প্রধান মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আগে জানিয়েছিলেন, সিনহা হত্যার ঘটনা তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কমিটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় পেয়েছে।

এদিকে সিনহা হত্যার ঘটনায় পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষী কক্সবাজারের টেকনাফের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, নাজিম উদ্দিন ও মোহাম্মদ আইয়াস স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন। এ জন্য সকাল ১০টার দিকে তাদের কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে নেওয়া হয়। গতকাল একই আদালত তৃতীয় দফায় তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিশবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ হয়ে হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফিরছিলেন সিনহা। পথে শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি। এ সময় পুলিশ সিনহার সঙ্গে থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাতকে আটক করে। পরে নীলিমা রিসোর্ট থেকে তাদের আরেক সহকর্মী শিপ্রা দেবনাথকে আটক করা হয়। দুজনই এখন জামিনে মুক্ত।

ওই ঘটনায় টেকনাফ থানায় করা পুলিশের মামলায় সাক্ষী করা হয় মারিশবুনিয়া গ্রামের তিন বাসিন্দা নুরুল আমিন, নাজিম উদ্দিন ও মোহাম্মদ আইয়াসকে। পরে তাঁদের তিনজনকে সিনহার বোনের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। প্রথম দফায় এই তিন সাক্ষীকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন র‌্যাবের তদন্তকারীরা। ২৩ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁদের দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করেন।

বিজ্ঞাপন

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৩১ জুলাই সন্ধ্যার দিকে সিনহা সঙ্গী সিফাতকে নিয়ে মারিশবুনিয়ার পাহাড়ে ওঠে ভিডিওচিত্র ধারণ করছিলেন। এ সময় নুরুল আমিন, নাজিম উদ্দিন ও মোহাম্মদ আইয়াস লোকজনকে জড়ো করে ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। পরে পাশের মসজিদের মাইক থেকে সিনহা ও সিফাতকে পাহাড় থেকে নেমে তাঁদের সামনে গিয়ে ‘ডাকাত না’ প্রমাণ দিতে বলেন। সিনহা নেমে গিয়ে নিজেকে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর পরিচয় দিয়ে মেরিন ড্রাইভের দিকে চলে যান। এ ঘটনার আগে ও পরে সিনহা সম্পর্কে বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে নানা তথ্য দেন এই তিন গ্রামবাসী।

বর্তমানে সিনহা হত্যা মামলার ১৩ আসামির মধ্যে একাধিকবার রিমান্ড শেষে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার প্রধান আসামি টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির বরখাস্ত হওয়া ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী, থানার এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্য এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ। তাঁরা পাঁচজন বর্তমানে জেলা কারাগারে।

মন্তব্য পড়ুন 0