বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিজিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিজিএফসিএল কার্যালয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের (সিবিএ) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে গফুর-মোর্শেদ পরিষদ ও আলাল-আনিস পরিষদ দুটি পক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। গফুর-মোর্শেদ পরিষদে সভাপতি প্রার্থী ছিলেন ফোরম্যান টেলিকম পদে কর্মরত আবদুল গফুর ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন ক্লার্ক-১ মোর্শেদ আলম। তাঁদের প্রতিপক্ষ আলাল-আনিস পরিষদে সভাপতি প্রার্থী ছিলেন ফোরম্যান উৎপাদনে কর্মরত মো. আলাউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন ক্লার্ক-১ আনিসুর রহমান। নির্বাচনে আবদুল গফুর সভাপতি ও মোর্শেদ আলম সাধারণ সম্পাদকসহ গফুর-মোর্শেদ পরিষদের সবাই জয়ী হন।

বিজিএফসিএলের একাধিক শ্রমিক সূত্রে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিবিএর তালিকা অনুযায়ী পরাজিত আলাল-আনিস পরিষদের পক্ষের ১২ জনকে বিজিএফসিএলের আওতাধীন এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় বদলি করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের অপারেটর-২ প্ল্যান্ট জামাল হোসেনকে বাঞ্ছারামপুরের মেঘনা গ্যাসক্ষেত্রে, ফোরম্যান উৎপাদন জাকির হোসেনকে মেঘনা গ্যাসক্ষেত্র থেকে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে, চালক আবদুল আজিজকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্র থেকে কুমিল্লার বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে, ফোরম্যান চালক মো. কাসেমকে বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্র থেকে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে, কর্মচারী ফরিদ মুন্সীকে কুমিল্লার বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্র থেকে নরসিংদী গ্যাসক্ষেত্রে, আবদুল ওয়াহাবকে নরসিংদী গ্যাসক্ষেত্র থেকে বাঞ্ছারামপুরের মেঘনা গ্যাসক্ষেত্রে, মোখলেছুর রহমানকে নরসিংদী থেকে কুমিল্লার বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে, আক্তার হোসেনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্র থেকে হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রে, জানে আলমকে মেঘনা গ্যাসক্ষেত্র থেকে নরসিংদী গ্যাসক্ষেত্রে, মো. মুছা মিয়াকে হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র থেকে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে, চালক ফরিদ মিয়াকে নরসিংদী গ্যাসক্ষেত্র থেকে বিজিএফসিএলের বিরাসারের প্রধান কার্যালয়ে, হেলাল উদ্দিনকে বিজিএফসিএলের বিরাসারের প্রধান কার্যালয় থেকে নরসিংদী গ্যাসক্ষেত্রে বদলি করেছে বিজিএফসিএল কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজিএফসিএলের এক কর্মকর্তা প্রথম আলাকে বলেন, সিবিএ নির্বাচনের পর সাধারণভাবেই কিছু বদলি হয়। জয়ী নেতারা তাঁদের পক্ষের কর্মীদের বদলির মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানের ভালো জায়গায় নিয়ে যান।

স্থানীয় লোকজন, মামলার এজাহার ও বিজিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাত আটটার দিকে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে বিজিএফসিএলের প্রধান কার্যালয়ের বাইরে গফুর-মোর্শেদ ও আলাল-আনিস পরিষদের লোকজনের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে বিজিএফসিএলে কর্মরত ডেসপাস ক্লার্ক-২ কাজী আবদুল কুদ্দুস, তাঁর দুই ছেলে কাজী জুনায়েদ (২৮) ও কাজী জুবায়ের (২৫) ও বিজিএফসিলে কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর সাইফুল ইসলাম (২৮) আহত হন। পুলিশ সে সময় বিজয়ী গফুর-মোর্শেদ পরিষদের সমর্থক ইমাম হোসেন, নির্মল সিংহ ও মোস্তাক আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার পরপরই আহত কাজী আবদুল কুদ্দুস সিবিএর আগের কমিটির সহসভাপতি আবদুল গফুর ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদকসহ ১৩ জনকে আসামি করে সদর থানায় একটি মামলা করেন।

সিবিএর সভাপতি আবদুল গফুর প্রথম আলোকে বলেন, মামলার বিষয়টি নিয়ে আপসের আলোচনা হয়েছে। তবে তারা বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করেছে। জয়ী দলের সমর্থকেরা বিভিন্ন জায়গায় থাকেন। তাঁদের কিছু কমিটমেন্ট থাকে। সে অনুযায়ী টুকিটাকি বদলি হয়। বাকিটা কোম্পানি তার নিয়মানুসারে বদলি করে থাকেন। কিন্তু বদলির তালিকা বা হয়রানির অভিযোগটি সঠিক নয়।

বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) এ টি এম শাহ আলম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের (নির্বাচিত কমিটি) কথায় কোনো বদলি হবে না। দীর্ঘদিন ধরে অনেকে এক জায়গায় চাকরি করছেন। এ পর্যন্ত ছয়জনকে বদলি করা হয়েছে। তাঁদের স্থলে নতুন ছয়জন আসবেন। আপাতত আর কোনো বদলি করা হবে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন