default-image

সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় স্থানীয় এক কর্মীকে হত্যার ঘটনায় ৭২ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী এবং বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ বিশ্বাসের ছেলে মিঠু বিশ্বাস ও ভাতিজা নান্নু বিশ্বাস, বাবলু বিশ্বাস, লাবু বিশ্বাস, ঠান্ডু বিশ্বাস, খোরশেদ আলম বিশ্বাসের নামও রয়েছে। এর মধ্যে সাবেক মন্ত্রীর এক ভাতিজাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার বিকেলে এনায়েতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মামলাটিতে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ বিশ্বাসের ভাতিজা নান্নু বিশ্বাসকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মামলার এজাহারভুক্ত ৮ নম্বর আসামি সাবেক মন্ত্রীর ভাতিজা খোরশেদ আলম বিশ্বাস, একই উপজেলার আজগড়া গ্রামের বাবু শেখ, শামসুল মেম্বার ও নাঈম শেখ। এ ছাড়া মামলার এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে আটটার দিকে নিহত আবদুল জলিলের চাচাশ্বশুর জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। জাহাঙ্গীর এনায়েতপুর থানাধীন দৌলতপুর আঞ্চলিক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক।

গত বুধবার দিনব্যাপী চৌহালীর বেতিল বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে সদিয়াচাঁদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমার্ধে আলোচনা সভা শেষে বেলা তিনটার দিকে দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি পদে দুজন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সভাপতি পদে সাবেক সভাপতি সিরাজুল আলমকে হারিয়ে শাহাদত হোসেন তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনিকে হারিয়ে বুদ্দু বিজয়ী হচ্ছেন, এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরই একপর্যায়ে ঊরুতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে বেলকুচি আজগড়া জামাত মোড় এলাকার জলিলের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া উভয় পক্ষের আহত হন আরও কয়েকজন। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে নিহত জলিলকে ৬ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সদস্য দাবি করে এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগ।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন