বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ফলে শহরের সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ সড়কের ১ নম্বর টুকু সেতু, ইলিয়ট সেতু এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে মিছিল নিয়ে আসার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা হামলা চালান। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপে বিএনপির প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ ইউসুফ বলেন, বিএনপির নেতা–কর্মীরা শহরের ইসলামিয়া কলেজ মাঠে সমাবেশে যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক স্লোগান দেন এবং ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজসংলগ্ন কাটাখালি সেতুর কাছে ছাত্রলীগ নেতা–কর্মীরা প্রতিবাদ করলে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে তাঁদের পক্ষের ২০-২৫ জন নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন। যুবলীগ নেতা রাশেদ ইউসুফ দাবি করেন, পরিকল্পতভাবে বিএনপির লোকজন লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল, ককটেল নিয়ে তাঁদের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন।

default-image

সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শারাফত হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টেও পুলিশ রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত।

এদিকে শহরের ইসলামিয়া সরকারি কলেজ মাঠে বিএনপির সমাবেশে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সমাবেশস্থলে লোকজন আসতে শুরু করেন। বেলা দুইটার দিকে সমাবেশে যোগ দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আজকে আমাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে সে রকম আক্রমণ হবে। আমরা যুদ্ধ করব। আমরা তাদের (আওয়ামী লীগ) সঙ্গে যুদ্ধ করে জয়লাভ করব। যে পালাবে সে মরবে। যে ঘুরে দাঁড়াবে, সেই জিতবে। আসুন আমরা যুদ্ধ করি। যুদ্ধ করে খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনি।’

জেলা বিএনপির সভাপতি রোমানা মাহমুদের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহপ্রচার সম্পাদক আমীরুল ইসলাম খান, বিএনপির বিদেশবিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি মাসুদ রানা, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান প্রমুখ।

default-image

দীর্ঘদিন পর জেলা বিএনপি প্রকাশ্যে সমাবেশ করার অনুমতি পেয়ে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যায়। সিরাজগঞ্জ পৌরসভা ও সদর থেকে বিএনপি, যুবদল, শ্রমিক দল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন হাতে নিয়ে সমাবেশস্থলে আসেন। এ ছাড়া বেলকুচি, শাহজাদপুর, কামারখন্দ, তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া উপজেলা থেকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ব্যানার, ফেস্টুন হাতে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে দেখা যায়। বেলা দুইটার দিকে বিশাল আয়তনের সমাবেশস্থল অনেকটা পূর্ণ হয়ে যায়। এ সময় তাঁদের দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগানে দিতে দেখা গেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন