default-image

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার যমুনার চরের গটিয়া গ্রামে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর নাম জুয়েল রানা (৩৫)। তিনি মোটরসাইকেল চোর দলের প্রধান বলে জানা গেছে।

বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। জুয়েল রানা সদর উপজেলার গটিয়া গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকী প্রথম আলোকে জানান, জুয়েল রানার বিরুদ্ধে আটটি চুরিরসহ নয়টি মামলা রয়েছে। মূলত মামলার সূত্র ধরেই বুধবার দুপুরে সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ যমুনা নদী পার হয়ে উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের গটিয়া গ্রামে জুয়েলের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় জুয়েল বাড়িতে নিজের ঘরেই অবস্থান করছিলেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়েল ঘরের দরজা আটকে বসে থাকেন। অনেক ডাকাডাকির পরও তিনি দরজা না খুলে পুলিশ সদস্যদের বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেন ও নানাভাবে হুমকি দেন। একপর্যায়ে পুলিশ ওই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনে।

বিজ্ঞাপন

ওসি বাহাউদ্দিন ফারুকী আরও বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ ওই ওয়ার্ডের সদস্য জহুরুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তাঁরাও জুয়েলকে দরজা খোলার জন্য ডাকাডাকি করেন। তাতেও তাঁর সাড়া মেলেনি। একপর্যায়ে ঘরের ভেতর থেকে আগুনের শিখা বের হতে দেখা যায়। এ সময় পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতর থেকে আগুনে পোড়া জুয়েলের লাশ উদ্ধার করে। এ সময় ঘরের মধ্যে থাকা চারটি চোরাই মোটরসাইকেলও পুড়ে যায়।

ইউপি চেয়ারম্যান মজিদ ও ইউপি সদস্য জহুরুল বলেন, ‘আমাদের ধারণা, পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে জুয়েল ঘরের ভেতর থাকা মোটরসাইকেলের পেট্রল নিজের শরীরে ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।’

এদিকে রাত নয়টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থল গটিয়া গ্রামেই ছিল। সেখান থেকে জুয়েলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে আনা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন