বিজ্ঞাপন

বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল প্লাজা সূত্রে জানা যায়, স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন এই সেতু পারাপার হয় ১২-১৩ হাজার যানবাহন। বর্তমানে ঈদকে সামনে রেখে গত বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩২ হাজার ২৬৫টি যানবাহন সেতু পারাপার হয়েছে। একই সঙ্গে গত শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩ হাজার ৯১২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। গত শনিবার সকাল ৬টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কিছুটা কমে ৩২ হাজার ৭১৩টি যানবাহন পারাপার হলেও যানবাহনের চাপ রয়েই গেছে।

সরেজমিন আজ সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম প্রান্ত থেকে হাটিকুমরুল গোলচত্বর পর্যন্ত অবস্থান করে দেখা যায়, মহাসড়কের ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী লেনের যানবাহন থেমে থেমে চলছে। আবার মাঝেমধ্যেই একই স্থানে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে অনেক সময়। ধীরগতিতে কিছু দূর এগোতেই যানবাহনগুলোকে আবার থেমে থাকতে হচ্ছে। মহাসড়কের জরাজীর্ণ নলকা সেতু ও মহাসড়কের কড্ডার মোড় এলাকায় নির্মাণাধীন উড়াল সড়ক এলাকায় যানবাহনের গতি কমিয়ে দেওয়ায় সেখান থেকেই যানজটের সৃষ্ট হচ্ছে। মাঝেমধ্যে আবার এই ধীরগতির জটলা বড় হয়ে ২২ কিলোমিটার এলাকায় বিস্তার লাভ করছে।

আজ দুপুরে সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ মুলিবাড়ি চেকপোস্ট এলাকায় কথা হয় বেলকুচি উপজেলার রান্ধুনীবাড়ি গ্রামের তাঁত ব্যবসায়ী শাহজাহান আলীর (৪৫) সঙ্গে। তিনি জানান, ঢাকা থেকে বেলকুচিতে যাবেন তিনি। বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে মহাসড়কে গাড়ির ধীরগতির কারণে সয়দাবাদ মোড় আসতেই সময় লেগেছে ১ ঘণ্টা। তিনি জানান, সেতুর পূর্ব পারে যানজট বর্তমানে অনেকটাই কম। প্রতিটি গাড়ি পশ্চিম পারে এসেই যানজটে পড়ছে।

মহাসড়কের কড্ডার মোড় এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যানজটে আটকে থাকা নাটর বড়াই গ্রাম এলাকার তৌহিদুর রহমান জানান, থেমে থেমে এমন যানজটে ১০ মিনিটের সড়ক পার হতে ১ ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যাচ্ছে।

এ সময় মহাসড়কে সবচেয়ে বেশি নজরে পড়েছে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশু পরিবহনের যানবাহন। এ ছাড়াও মহাসড়কে যাত্রীবাহী দূরপাল্লার বাস, প্রাইভেট কার, ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন দেখা গেছে।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী বলেন, ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ প্রচুর বেড়েছে। জেলার কড্ডা এলাকার যানজট ও নলকা সেতু এলাকার যানজট কখনো কখনো এক হয়ে যাচ্ছে। এসব কারণে নলকার পূর্ব পাশ থেকে হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকা পর্যন্ত যানজট তৈরি হচ্ছে। তবে গত দিনের চেয়ে আজ অনেকটাই যানজটের অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু পশ্চিম থানার ওসি মোসাদ্দেক হোসেন প্রথম আলোকে জানান, আজ সকাল থেকেই মহাসড়কটিতে যানবাহনের সংখ্যা কমেছে, তবে চাপ কমেনি। তবুও অন্যান্য দিনের তুলনায় মহাসড়কটি বিচ্ছিন্ন কিছুটা যানজট থাকলেও অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন