সিরাজগঞ্জ পাউবো কার্যালয়ের গেজ রিডার (পানির পরিমাপক) হাসানুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীতে ১২ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। মঙ্গলবার বেলা তিনটায় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ এলাকায় যমুনা নদীর হার্ড পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ওই পয়েন্টের বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৩৫ মিটার।

আজ দুপুরে সদর উপজেলার মেছড়া, কেচুয়াহাটা, খোকশাবাড়ী, গুনেরগাতী, সইলাবাড়ী, দুখিয়াবাড়ী, রান্ধুনবাড়ী, পঞ্চশোনা, বড়শিমুল বেলোটিয়ার চর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এসব এলাকার বাড়িঘরে পানি উঠেছে। অনেক বাড়ির নলকূপ ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে পড়েছে। সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষ নৌকা ও ভেলায় চলাচল করছেন।

default-image

যমুনা নদীতে অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে ফুলজোড়, করতোয়া, বড়াল, হুড়াসাগর, ইছামতীসহ জেলার অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানি বাড়ছে। বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পানিবন্দী মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার চৌহালী, শাহজাদপুরে নদীভাঙন অব্যাহত আছে। ওই এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ করা হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ পাউবো কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে সিরাজগঞ্জের নিম্নাঞ্চলগুলোয় বন্যা চলছে। যমুনা নদীবিধৌত এই জেলায় প্রতিবছরেই এমন বন্যা হয়ে থাকে। প্রতিবছরই নদীর অভ্যন্তরীণ নিম্নাঞ্চল ও নদীর তীরবর্তী অঞ্চল প্লাবিত হয়। তবে এখন পর্যন্ত আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির বন্যা সৃষ্টি হয়নি। আগামী দুই থেকে তিন দিন পানি বাড়লেও ভয়াবহ বন্যার শঙ্কার কিছু নেই বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে জেলার বন্যাকবলিত পাঁচটি উপজেলার ৮৪টি বিদ্যালয়ের মাঠে পানি ঢুকে পড়েছে। জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ওই বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কয়েকটি বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ, যাওয়া–আসার সড়ক ডুবে গেছে। তাই ১০টি বিদ্যালয় সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া যমুনার প্রবল পানির তোড়ে সদর উপজেলার মেছড়া ইউনিয়নের কেচুয়াহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ভেঙে পড়েছে। বিদ্যালয় ভবনের ভেঙে যাওয়া অংশগুলো তুলে নিরাপদ উঁচু স্থানে রাখা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন