ভাঙনকবলিত শাহজাদপুর উপজেলার খুকনী ইউনিয়নের যমুনা তীরবর্তী ব্রাহ্মণ গ্রামের কৃষক আমেদ আলী বলেন, যমুনার ভাঙনে তাঁর সব জমি বিলীন হয়েছে। তাঁর বাড়ি থেকে ৫০ গজ দূরে এখন যমুনা নদী। সব সময় শঙ্কায় থাকেন কখন যে ভিটেমাটি নদীতে চলে যায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বাবলু কুমার সূত্রধর বলেন, বন্যায় জেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এরই মধ্যে ৯ হাজার ১০৬ হেক্টর জমির পাট, তিল, সবজি, বোনা আমন, রোপা আমনের বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন মরিচ নষ্ট হয়ে গেছে। তবে দ্রুত পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কম হবে।

কৈজুরি ইউনিয়নের পাচিল গ্রামের তাঁতশ্রমিক আবুল হোসেন বলেন, নদীর পারের মানুষ নদীর পানি বাড়তে থাকলেও ভয়ে থাকেন, আবার যখন কমতে শুরু করে তখনো ভয়ে থাকেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, যমুনা নদীতে পানি কমতে শুরু করলেও ফুলজোড়, করতোয়া, বড়াল, হুড়াসাগর, ইছামতীসহ অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানি বাড়া অব্যাহত আছে। এখনো জেলার ৫টি উপজেলার ৩৮টি ইউনিয়নের ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দী আছেন। পানিতে তলিয়ে গেছে ৯ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমির ফসল।

জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান বলেন, চলতি বন্যায় জেলার ৫টি উপজেলার ৩৮টি ইউনিয়নের ৮ হাজার ৪০০ পরিবারের প্রায় ৫২ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। ইতিমধ্যে বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের জন্য ১৪০ মেট্রিক টন চাল, ২ লাখ টাকা ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব শিগগিরই বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া মজুত আছে ৭৭১ মেট্রিক টন চাল ও ১৪ লাখ টাকা।

সিরাজগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, যমুনায় পানি কমতে শুরু করেছে। অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানিও খুব দ্রুতই নিম্নাঞ্চল থেকে নেমে যাবে। পানি আরও কিছুটা কমে গেলে নদীভাঙন যাতে তীব্র হতে না পারে, সে জন্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোয় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত বালুভর্তি জিও ব্যাগ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোয় মজুত রাখা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন