default-image

সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের হাজী আহমাদ আলী আলিয়া কামিল মাদ্রাসায় স্নাতকোত্তর দ্বিতীয় পর্বে পুনঃ ভর্তিতে নির্ধারিত ফির প্রায় তিন গুণ বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গতকাল রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির স্নাতকোত্তর (দুই বছর মেয়াদি) দ্বিতীয় পর্বে পুনঃ ভর্তি রোববার থেকে শুরু হয়েছে। ফি বাবদ মাদ্রাসা বোর্ড ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মকে তোয়াক্কা না করে নির্ধারিত ৩৭৫ টাকার বিপরীতে এক হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। মাদ্রাসাটিতে স্নাতকোত্তরে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছেন।

আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আবু হানিফা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সেশন ফি ৩০০ টাকা, ক্রীড়া ফি ৫০ টাকা ও রোভার স্কাউট ফি ২৫ টাকাসহ প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে মোট ৩৭৫ টাকা প্রদান করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৬২৫ টাকা করে বেশি নিলে কত টাকা হয়? আর সেই টাকা কার পকেটে যাচ্ছে? এই অতিরিক্ত টাকা কোন খাতে নেওয়া হচ্ছে, সেটিও রসিদে লেখা হচ্ছে না। সরকারি প্রতিষ্ঠানে সরকারি সুবিধা ভোগ করার জন্যই তাঁদের মতো নিম্নমধ্যবিত্তরা ভর্তি হন। অথচ তাঁদের এখন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চেয়েও বেশি ফি দিতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শামছুল আরেফিন বলেন, তাঁরা কোনো ধরনের অতিরিক্ত অর্থ নিচ্ছেন না। তবে যাঁদের মাসিক বেতন বকেয়া আছে, তাঁদের কাছ থেকে সেগুলো আদায় করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ৬২৫ টাকা কোন খাতে নেওয়া হচ্ছে, সেটি রসিদে উল্লেখ করা হচ্ছে না কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ বলেন, ‘কী কী খাতে নেওয়া হচ্ছে, সেটি উল্লেখ করার সময় নেই। শিক্ষক–কর্মচারীদের বেতন সরকারি টাকায় সম্পন্ন হয় না। তাই নির্ধারিত ৫৫০ টাকার সঙ্গে ১০০ টাকা বেশি নিয়ে ৬৫০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।’

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিউল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ও বোর্ডের নির্ধারিত ফির বাইরে কোনো অতিরিক্ত ফি নেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি সরেজমিন দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন