বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সাংসদ ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার ভাষ্য, এখানে ‘সুন্দর শান্তিপূর্ণ’ নির্বাচনী পরিবেশ রয়েছে। মনোনয়ন ফরম জমা দিতে কাউকে বাধাদানের অভিযোগ কাগজে–কলমে ওঠেনি। তবু প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পাওয়া যায় না একসময়ের সন্ত্রাসের জনপদ খ্যাত চট্টগ্রামের রাউজানে। চট্টগ্রামের অন্য সব উপজেলায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একসঙ্গে এত নির্বাচিত হওয়ার নজির নেই।

রাউজানে এবার ১৪ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ১৪ জন, সাধারণ সদস্য পদে ১২৬ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৪২ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে ১১ নভেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল।

এর আগে প্রতিটি পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন একজন করে।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা অরুণোদয় ত্রিপুরা প্রথম আলোকে বলেন, ‘যেহেতু প্রতিটি পদে একজন করে প্রার্থী রয়েছেন, তাই নিয়মানুযায়ী আমাদের তাঁদের নির্বাচিত ঘোষণা করতে হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে অরুণোদয় বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করে দিয়েছি। কিন্তু প্রার্থী পাওয়া যায় না। কেউ তো আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ করেনি।’

এবার ১৪ ইউনিয়নের মধ্যে পুরোনো চেয়ারম্যান দুজনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। কদলপুর ইউনিয়ন থেকে গতবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তসলিম উদ্দিন। জানতে চাইলে তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘এমপি সাহেব আমার নাম কেন্দ্রে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু দল আমাকে মনোনয়ন দেয়নি। তাই করতে পারিনি।’

২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাউজান থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী বিনা ভোটে নির্বাচিত হন। এরপর থেকে রাউজানে স্থানীয় সরকারের প্রায় সব পর্যায়ের নির্বাচনে বিনা ভোটের প্রচলন শুরু হয়। মূলত সাংসদ নিজে প্রার্থী নির্ধারণ করেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিনা ভোটে নির্বাচনের বিষয়ে রাউজানের সাংসদ এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাউজানে কোনো চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম নেই। আছে কেবল উন্নয়ন। আমাদের মধ্যে একটা ঐক্য আছে। তাই নির্বাচনের সময় আমরা বসে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তার বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়ায় না। বিএনপিও বলতে পারবে না তাদের জোর জবরদস্তি করা হয়েছে। কেউ খেলতে না চাইলে তাহলে কী করার আছে।’

এর আগে ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ১৪টি ইউপি নির্বাচনের মধ্যে ১১টিতেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। আবার এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়রসহ সবাই বিনা ভোটে নির্বাচিত হন।

ভোটের ‘রাউজান মডেল’-এর বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচন মানে বিকল্প থেকে বেছে নেওয়া হয়। এটা নির্বাচনের নামে পাতানো খেলা, প্রহসন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন