default-image

সিলেট নগরের বন্দরবাজারের লালবাজারে একটি আবাসিক হোটেলের পেছন থেকে অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করা লাশের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁর নাম রেজাউল করিম ওরফে হায়াত আলী (৫০)। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের কালাছাদেক গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল পেশায় একজন পল্লি চিকিৎসক।

পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর সিলেট কোতোয়ালি থানায় নিহতের বোন মিনা বেগম বাদী হয়ে আজ মঙ্গলবার অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, রেজাউলকে বাড়ি থেকে শহরে ডেকে এনে হত্যা করে লাশ ফেলে রাখা হতে পারে।

গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে লালবাজারের মোহাম্মদীয়া আবাসিক হোটেলের পেছনে পড়ে থাকা অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। খুনি শনাক্ত করতে পুলিশ ঘটনাস্থলের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশও ধারণা করছে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি ওই আবাসিক হোটেলটির বোর্ডার হিসেবে ওঠেননি। তাঁর লাশ যে স্থানে পড়ে ছিল, সে জায়গায় পৌঁছাতে হোটেলের অভ্যন্তরের একটি কক্ষের সঙ্গে সংযুক্ত শৌচাগার হয়ে প্রবেশ করতে হয়। হোটেলের ওই কক্ষ ব্যবস্থাপক ব্যবহার করেন। এ ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। লাশটি ভবনের ওপর থেকেও পড়ার আশঙ্কা নেই। সেই সঙ্গে পাশের ভবনগুলো থেকেও সেখানে আসা যায় না।

বিজ্ঞাপন

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আবাসিক হোটেলের সংশ্লিষ্ট কেউ ওই ব্যক্তিকে হত্যা করে সেখানে লাশটি লুকিয়ে রেখেছিলেন। এ জন্য আবাসিক হোটেলটির চারজন কর্মচারী ও ব্যবস্থাপককে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। কিন্তু কোনো সূত্র না পাওয়ায় মঙ্গলবার ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

রেজাউলের বোন মিনা বেগম বলেন, শহরে কাজ আছে বলে ২৭ জানুয়ারি বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন রেজাউল। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। কী কারণে শহরে গিয়েছিলেন, কারা নিয়ে গিয়েছিল—এসব বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা কিছু জানেন না।

হত্যায় জড়িত ব্যক্তিরা পল্লি চিকিৎসককে সিলেটে নিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আবু ফরহাদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নিহত ব্যক্তির বাঁ কানের নিচে ধারালো কিছু দিয়ে আঘাতের গভীর চিহ্ন রয়েছে। মোহাম্মদীয়া হোটেলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে খুনি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, গত ৩০ জানুয়ারি রেজাউল হোটেল থেকে বের হয়েছেন। ওই দিন সিলেট শহরে দিনের বেলা বিদ্যুৎ ছিল না। এ জন্য রেজাউল আবার হোটেলে প্রবেশ করলেন কি না, এ বিষয়টি সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়নি। হোটেলের ব্যবস্থাপক, সহকারী ব্যবস্থাপক ও দুজন কর্মচারীকে পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন