default-image

'রমজানের প্রথম দিনেই হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোর সামনে শামিয়ানা টানিয়ে নানা পদের ইফতারির পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। চারদিকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হইহুল্লোড় আর হাঁকডাক।' গত বছরের ৭ মে এমন চিত্র ছিল সিলেট নগরের। ৮ মে সেই ছবি ছাপা হয়েছিল প্রথম আলোতে। বছর ঘুরে আবারও রমজান এসেছে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে বদলে গেছে বিগত বছরের দৃশ্য।

সিলেট নগরের যেসব এলাকায় গত বছর ছিল ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক, সেখানে এখন নীরব–সুনশান পরিবেশ। নেই সারি সারি ইফতারির পসরা আর ক্রেতাদের ভিড়। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে নগরের সব রেস্তোরাঁ এবার বন্ধ। কোথাও বিক্রি হচ্ছে না ইফতারসামগ্রী।

গতকাল শনিবার বিকেলে নগরের বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, চৌহাট্টা, শিবগঞ্জ, উপশহর, কদমতলী, সুবিদবাজার, পাঠানটুলা, মদিনামার্কেট, শাহি ঈদগাহ, সোবহানীঘাট, মীরাবাজার এলাকায় দেখা গেছে, রেস্তোঁরা থেকে ফুটপাত—কোথাও ইফতারি বিক্রি হচ্ছে না। সব দোকানই বন্ধ। অথচ গত বছর এসব এলাকায় ইফতারির দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ে পা ফেলারই জায়গা ছিল না। তবে খেজুর, মুড়ি, ফল ও শাঁকসহ ইফতারসামগ্রীর উপকরণের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে।

জিন্দাবাজার বাজার এলাকার পানসী রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আহমদ বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে গত ২২ মার্চ থেকে তাদের রেস্তোরাঁ বন্ধ। এরই ধারাবাহিকতায় রমজানের প্রথম দিনও রেস্তোরাঁ বন্ধ আছে। অথচ গত বছরের এমন দিনে তাদের দোকানেই হাজারো ক্রেতার পদচারণা ছিল। রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকার কারণে ব্যবসায়ীদের চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আম্বরখানা এলাকায় শাক কিনছিলেন মাজহারুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ভোগান্তি এড়াতে সচরাচর তাঁরা বাইরের ইফতারিই বাসায় কিনে নিয়ে যেতেন। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। তাই নিজের বাসাতেই ইফতার তৈরি করতে হচ্ছে গৃহিণীদের। এ অবস্থায় ইফতার তৈরির উপকরণ ও কিছু শাক কিনতে তিনি বাইরে বের হয়েছিলেন। নগরের পথচলতি কয়েকজন বলেন, এবার ইফতারির দোকানগুলো বন্ধ, তাই বাসাতেই ইফতারি বানানো হচ্ছে। এ অবস্থায় তাঁরা ইফতারের উপকরণ কেনাকাটা করতে বের হয়েছেন।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আবুল কালাম প্রথম আলোকে বলেন, জনসমাগম এড়াতে সিলেটের কোথাও যেন খোলাবাজারে, রেস্তোরাঁ কিংবা ফুটপাতে ইফতারিসামগ্রী বিক্রি না হয়, সে জন্য জেলা প্রশাসন নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে এ বার্তা প্রচারে নগরে টানা মাইকিং করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতেই স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0