বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীরা বলেছে, দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ক্লাস করতে পেরে খুশি তাঁরা। শিক্ষক, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করে অনেকটা আবেগতাড়িত হয়েছেন। তবে শিক্ষকদের নির্দেশনা অনুযায়ী একে অন্যের সঙ্গে হাত মেলাতে না পারলেও বন্ধুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং কথাবার্তা বলেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।

সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রবেশের পর হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ছিল। এ ছাড়া প্রবেশ দ্বারের বাইরে থাকা প্রায় সব অভিভাবকের মুখেই ছিল মাস্ক। বিদ্যালয়ের দপ্তরির হাতে ছিল আলাদা মাস্কের প্যাকেট। দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে ফিরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিল। বিদ্যালয়ে শিক্ষক মিলনায়তনের পাশেই আইসোলেশনের একটি কক্ষ দেখা গেছে। ওই কক্ষে আলাদা দুটি বিছানা পেতে রাখতে দেখা গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের উপস্থিতি দেখা যায়নি।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী পায়েল মণ্ডল বলে, ‘অনেকদিন ধরে অনলাইনে ক্লাস করেছি কিন্তু সশরীরে ক্লাস করতে পেরে আজ অনেক ভালো লাগছে। আগে অনলাইনে ক্লাস করে অনেকের চেহারা দেখা যেতো না একে অপরের সঙ্গে কথা বলা যেতো না।’

একই শ্রেণির আফরিন আক্তার বলেন, ‘বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করেও অনেক ভালো লেগেছে। যদিও শিক্ষকেরা আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে বন্ধুদের হাত মেলানো কিংবা স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন, এরপরও সশরীরে বিদ্যালয়ে ক্লাস করতে পেরে অনেক ভালো লাগছে।’

বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে মেয়ের জন্য দাড়িয়ে থাকা রেহেনা খাতুন বলেন, দীর্ঘ দিন পর বিদ্যালয় খুলেছে। এতে অনেক খুশির পাশাপাশি কিছুটা আতঙ্কও রয়েছে। মেয়েকে ভিড় এড়িয়ে চলতে বলেছেন, পাশাপাশি সঙ্গে ব্যক্তিগত স্যানিটাইজার দিয়েছেন। সে সঙ্গে শিক্ষকদের নির্দেশনা মেনে চলার ব্যাপারেও বলেছেন।

তাপমাত্রা বেশি থাকায় ফিরে গেল তিন শিক্ষার্থী

এদিকে সিলেট নগরের জিন্দাবাজার সরকারি প্রথামিক বিদ্যালয়ে তিন শিক্ষার্থীর শারীরিক তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রির ওপরে হওয়ায় তাঁদের নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খাদিজা খাতুন বলেন, রোববার সকাল সোয়া ৯টা থেকে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা আসতে শুরু করে। তাদের শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করিয়েছেন। সে সময় তিন শিক্ষার্থীর শারীরিক তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকায় অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। তবে তারা সুস্থ ছিল। তাঁদের ব্যাপারে আমরা খোঁজ খবর রাখছেন।

default-image

বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানান, রোববার বিদ্যালয়ে পঞ্চম ও তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। তবে বিদ্যালয়ের অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও বিদ্যালয়ে আসছে, তাঁদের বুঝিয়ে নির্দিষ্ট দিনে বিদ্যালয়ে আসার জন্য বলা হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী শাহিদুল ইসলাম ও তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী এমরান মিয়া বলেন, দীর্ঘ দিন পর বিদ্যালয়ে এসে অনেক বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। এতোদিন অনলাইনে ক্লাস হলেও ঠিকমতো সবার সঙ্গে দেখা হতো না। তবে খারাপ লাগছে আগের মতো খেলাধুলা করতে পারছে না বলে।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছিলেন সহকারী শিক্ষক সূচনা দাশ। শ্রেণিকক্ষে নির্দিষ্ট দূরত্বে শিক্ষার্থীরা বসে পাঠ নিচ্ছিল। সূচনা দাশ জানান, শ্রেণি কক্ষে উপস্থিতি ৭০ শতাংশ। দুটি আলাদা কক্ষে পাঠদান করছেন। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয়ে এসে অনেক উচ্ছ্বাসিত হয়েছে। তাঁদেরও অনেক ভালো লাগছে। বিদ্যালয়ে আগে আসলেও শিক্ষার্থী না থাকায় প্রাণ ছিল না। আজ থেকে বিদ্যালয় যেনো প্রাণ ফিরে এসেছে।

সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিক উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগম বলেন, প্রতিদিন দুটো শ্রেণি খোলা রাখা হচ্ছে। কিন্তু অন্যান্য শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা চলে এসেছে। তবে তাদের নির্দিষ্ট রুটিন দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে ব্রিফিং করছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন