সাদ্দাম হোসেন বলেন, দক্ষিণ সুরমার পিরোজপুর এলাকার বাসিন্দা তিনি। এলাকায় পানি বেড়েছে। নালায় চাঁই পেতে ছোট মাছ ধরবেন। এ জন্য কিনতে এসেছেন। তবে যে দাম চাইছেন, সেটি বেশি। তিনি বলেন, চাঁইকে সিলেটে ডরি বলেও ডাকা হয়। বাঁশ ও তার দিয়ে তৈরি উপকরণটি ছোট মাছ ধরার ফাঁদ হিসেবেই ব্যবহৃত হয় বেশি।

চাঁই বিক্রেতা হেলাল মিয়া বলেন, ঈদের পর থেকে চাঁই বিক্রির ধুম লেগেছে। এখন প্রতিদিন ৮ থেকে ১০টি চাঁই বিক্রি করেন তিনি। চাঁইয়ের চাহিদা সব সময় থাকে না। বৃষ্টি হলে চাহিদা বাড়ে। কয়েক দিন ধরে সিলেটে বৃষ্টি থাকায় এর চাহিদা বেড়েছে। মূলত, ছোট মাছ ধরতেই চাঁই বিক্রি হচ্ছে।

শুধু হেলাল মিয়া নন, কিনব্রিজ এলাকায় আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী এই চাঁইয়ের ব্যবসা করেন।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমেই চাঁইগুলো বিক্রি হয়। তাঁরাও বর্ষা মৌসুমেই বিক্রির জন্য আনেন। মূলত, সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা থেকে চাঁইগুলো আসে। আকারভেদে একেকটি চাঁই ৩০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। তবে বড় চাঁইও রয়েছে। সেগুলো নদীতে পাতা হয়। সেগুলোর দাম বেশি এবং ঘনত্ব কম। মূলত, বড় মাছ শিকারের জন্য বড় চাঁই ব্যবহার করা হয়।

ব্যবসায়ীরা বলেন, বাঁশ, তার ও প্লাস্টিকের সুতা দিয়ে চাঁই তৈরি করা হয়। জকিগঞ্জে চাঁই তৈরি বাঁশ পাওয়া যায়। সে জন্য ওই এলাকায় বেশি তৈরি হয়। এ ছাড়া তাঁদের তৈরি চাঁইয়ের গুণগত মান ভালো। এ জন্য জকিগঞ্জের চাঁইয়ের চাহিদা রয়েছে। তবে স্থানীয়ভাবেও কিছু তৈরি হয়। সেগুলো নিজেরাই ব্যবহার করেন।

আখালিয়া এলাকার বাসিন্দা কাওসার আহমদ হাতে মাঝারি আকারের একটি চাঁই নিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, এলাকায় পানি এসেছে। ছোট মাছ ধরতে চাঁইটি কিনেছেন তিনি। শখের বশে মাছ ধরতে চাঁইটি তিনি ৬০০ টাকায় কিনেছেন বলে জানান।

দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজারের হারিয়ারচর এলাকার বাসিন্দা খালেদ আহমদ বলেন, মাঠে পানিপ্রবাহে চাঁই পেতে রাখলে মাছগুলো নিজ থেকেই চাঁইয়ের ভেতরে ঢোকে। মূলত, ছোট মাছ ধরার জন্যই চাঁই ব্যবহার করা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন