একটি গরু ও দুটি খাসি কোরবানি দিয়েছেন সিলেট নগরের ভাতালিয়া এলাকার আশিক আহমদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকালে কোরবানি দেওয়ার পর গরুর চামড়াটা ৪০০ টাকায় বিক্রি করেছি। খাসির চামড়া কিনতে চাননি ব্যবসায়ীরা। পরে দুটি খাসির চামড়ার জন্য ৪০ টাকা দেন তাঁরা।’

নগরের কুয়ারপাড় এলাকার এ টি এম ইসরাত বলেন, সকালে কোরবানি দেওয়ার পর কেউ চামড়া কিনতে আসেননি। পরে দুপুরের দিকে এতিমখানার শিক্ষার্থীদের গরুর চামড়া বিনা মূল্যে দিয়ে দিয়েছেন।

সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে ঢাকায় লবণযুক্ত চামড়া প্রতি বর্গফুট ৪৭ থেকে ৫২ টাকা, ঢাকার বাইরে ৪০ থেকে ৪৪ টাকা; সারা দেশে লবণযুক্ত খাসির চামড়ার প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং ছাগলের চামড়ার দর প্রতি বর্গফুট ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে সিলেটে এ দাম অনুসরণ করা হয়নি।

সিলেটের কয়েকজন আড়তদার বলেন, প্রতিবছর মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের কারণে চামড়া বেচাকেনায় অনেকটা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। এ জন্য এবার তাঁরা নিজেদের লোক দিয়ে চামড়া সংগ্রহ করেননি। এ ছাড়া ট্যানারির মালিকদের কাছে তাঁদের কোটি কোটি টাকা আটকে থাকার কারণে অনেকে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। এতে ব্যবসায় প্রতিযোগিতা কম। এ ছাড়া ট্যানারির মালিকেরা বেশি দামে চামড়া কিনতে চান না, দাম কমার এটি অন্যতম কারণ।

প্রতিবছর মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বেশি থাকে উল্লেখ করে সিলেট শাহজালাল (রহ.) বহুমুখী চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. শামিম আহমদ বলেন, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা মানুষের বাসাবাড়িতে গিয়ে আগেভাগেই চামড়া কিনে নেন। তাঁদের কারণে এবার আড়তদারেরা লবণ কম সংগ্রহ করেছিলেন। ফলে তাঁরা বেশি চামড়া সংগ্রহ করতে পারেননি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন