default-image

সিলেটে কোয়ারেন্টিন থেকে পালিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়া যুক্তরাজ্যপ্রবাসী পরিবারের ছয়জনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। নয় সদস্যের পরিবারের ছয়জনকে মোট ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের কোনো দণ্ড হয়নি। গতকাল রোববার রাত আটটার দিকে পরিবারের সদস্যরা কোয়ারেন্টিনের জন্য বরাদ্দ আবাসিক হোটেলে ফিরে এলে তাঁদের জরিমানা করেন সিলেট জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেজবাহ উদ্দিন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ছয়জনের মধ্যে আবদুল মালিক (৪৬), রুবাবা আক্তার (৪৩), রাহিমা বেগম (৪৩), রাদিয়া আক্তার (১৯) ও সায়েমা বেগমকে (১৮) তিন হাজার টাকা করে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যফেরত রুনা আক্তারকে (৪৪) পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) আশরাফ উল্যাহ। তিনি বলেন, প্রবাসী পরিবারের ছয় সদস্য প্রাপ্তবয়স্ক থাকায় তাঁদের জরিমানার আওতায় আনা হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক তিনজনকে জরিমানা করা হয়নি। জরিমানার অর্থ পরিশোধের পর তাঁদের আবার বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য থেকে সিলেটে আসা ১৫২ জন যাত্রীর মধ্যে এক পরিবারের এই ৯ সদস্যও ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জনকে সিলেটের নির্ধারিত হোটেলগুলোতে ৭ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। এ ছাড়া পাঁচজনকে হোম কোয়ারেন্টিনের জন্য পাঠানো হয়। বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় এক পরিবারের ৯ সদস্য গতকাল রোববার উধাও হয়ে যান। পরে তাঁদের খোঁজাখুঁজি করে অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পুলিশের হস্তক্ষেপে তাঁদের কোয়ারেন্টিনে ফিরিয়ে আনা হয়।

পুলিশ ওই প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানায়, তাঁরা হোটেল থেকে বের হয়ে সিলেটের জকিগঞ্জে অসুস্থ এক স্বজনকে দেখতে গিয়েছিলেন। পরে সিলেটে কোয়ারেন্টিন ভেঙে বাইরে বের হওয়ার খবর জানাজানি হলে পুলিশের তৎপরতার মুখে তাঁরা হোটেলে ফেরেন। গতকাল রাত আটটার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ছয়জনকে জরিমানা করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন