বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পিয়াইন, গোয়াইন, ধলাই নদ ও চেঙ্গের খাল সিলেটের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ। বছরের ছয় মাস এসব নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন দুই শতাধিক বালুবাহী নৌযান চলাচল করে। তিন নদে রয়েছে চারটি সেতু। এ পথ দিয়ে বালুবাহী নৌযানগুলো চলাচল করার সময় সেতুর পিলারে ধাক্কা লেগে ছোটখাটো দুর্ঘটনা থেকে শুরু করে নৌযানডুবির ঘটনাও ঘটে। এর মধ্যে সবচেয়ে অরক্ষিত গোয়াইন নদের সেতু। সেখানে ‘প্রটেক্টিভ পিলার’ নির্মাণের জন্য সওজকে চিঠি দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সেতুর সুরক্ষায় কোনো তহবিল না থাকায় নৌচলাচল সাময়িক বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয় সওজ।

সিলেটের নৌপথ বিআইডব্লিউটিএর আশুগঞ্জ-ভৈরববাজার নদীবন্দর শাখার অধীন। এর মধ্যে গোয়াইনঘাটের বাউরবাগ রানীগঞ্জ গ্রাম পর্যন্ত ডকি নদ, গোয়াইন নদ ও চেঙ্গের খাল ঘাট প্রতিবছর ইজারা দেয় বিআইডব্লিউটিএ। মেসার্স এস এল এন্টারপ্রাইজ এবার ইজারা নেয়। ইজারা প্রদানের কার্যাদেশ থেকে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে উল্লিখিত নৌপথের ইজারামূল্য ছিল ১ কোটি ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

বিআইডব্লিউটিএর পরিচালকের দপ্তরে ইজারাদারের ক্ষতিপূরণের আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ জুন থেকে ইজারা কার্যক্রম শুরু হলেও ১ জুলাই থেকে করোনা পরিস্থিতির কারণে লকডাউনে নৌপথ বন্ধ থাকে। এ জন্য ইজারা কার্যক্রমও বন্ধ থাকে। লকডাউন শেষে নৌপথে নৌযান সচল হলে ২০ আগস্ট সওজ সেতুর সুরক্ষায় নৌচলাচল বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয়। এতে ইজারাধীন পুরো নৌপথ দিয়ে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রিত হয়ে একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে তাদের প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ইজারাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস এল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সুবাস দাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা তো সরকারকে টাকা দিয়ে ইজারা নিয়েছি। আবার আরেকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান নৌচলাচল বন্ধের পরামর্শ দিয়ে ক্ষতির মুখে ফেলল। ক্ষতি পোষাতে আমরা ইজারা বাবদ সরকারকে দেওয়া টাকা ফেরত চাই।’

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিলুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, দুর্ঘটনা এড়াতে ও সেতুর সুরক্ষায় সওজ নৌচলাচল বন্ধের পরামর্শ দিয়েছিল। এটা তাৎক্ষণিক প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা ছিল। এতে আর্থিক ক্ষতিসহ অন্যান্য বিষয়গুলো দেখা এখন বিআইডব্লিউটিএর বিষয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন