বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বেলা ১১টার দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের কুমারগাঁও তেমুখী মোড়ে সড়কে ট্রাক এলোপাতাড়িভাবে রেখে অবরোধ করে রাখেন শ্রমিকেরা। এতে সড়কে ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল থেকে শুরু করে মোটরসাইকেল আরোহীদেরও ভোগান্তি পোহাতে হয়। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ট্রাকটি সরিয়ে নেন পরিবহনশ্রমিকেরা।

দক্ষিণ সুরমার হুমায়ূন রশীদ চত্বর এলাকায় প্রায় ১৫-১৮ জন পরিবহনশ্রমিকের অবস্থান করতে দেখা গেছে। এ সময় তাঁদের সড়কে চলাচল করা ব্যক্তিগত যানবাহন আটকাতে দেখা গেছে। অনেক সময় চালক ও যাত্রীর সঙ্গেও কথা–কাটাকাটির ঘটনা ঘটছে। ট্রাক ও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাইক্রোবাসচালককে আটকে সড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে রাখতে দেখা গেছে পরিবহনশ্রমিকদের। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে আধা ঘণ্টা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকার পর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চালক চলে যেতে চাইলে তাঁর সঙ্গে ধর্মঘট সফল করতে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা পরিবহনশ্রমিকদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা করতে দেখা গেছে।

পরিবহনশ্রমিক আমির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা আগেই সবাইকে ঘোষণা দিয়েছি, কেউ যাতে যানবাহন নিয়ে বের না হন। এরপরও যাঁরা না জেনে বের হয়েছেন, তাঁদের বুঝিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছি।’

প্রাইভেট কারে করে তাজপুর থেকে সিলেটের দিকে আসা জুয়েল আহমদ বলেন, ‘ব্যবসার কাজে একাই গাড়ি নিয়ে তাজপুরে গিয়েছিলাম। শেষ করে শহরে ফেরার পথে প্রবেশমুখে আটকে দেওয়া হয়েছে। এ সময় পরিবহনশ্রমিকেরা আমাকে বিভিন্নভাবে জেরা করেছেন। তাঁদের দেখে মনে হয়েছে, তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এগুলো গ্রহণযোগ্য নয়।’

এদিকে সিলেট কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন জুবায়ের আহমদ। তিনি বলেন, ‘শ্বশুর অসুস্থ, এ জন্য হবিগঞ্জ যাওয়ার জন্য বেরিয়েছি। ঘর থেকে রিকশায় করে বাস টার্মিনালে এলেও কোনো যানবাহন পাচ্ছি না। এখন স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে “ডিসিশন” নিয়েছি তাঁকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে ভাড়ায় মোটরসাইকেল নিয়ে একাই চলে যাব।’

সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (গণমাধ্যম) বি এম আশরাফ উল্যাহ বলেন, ‘পরিবহনশ্রমিকদের ধর্মঘটে মহানগর এলাকায় যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, এ জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া টহল দলও মাঠে রয়েছে। পরিবহনশ্রমিকদের সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে নিষেধ করা হয়েছে। কোথাও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করলে আমরা সেখানে গিয়ে সেটি সরিয়ে দিচ্ছি।’

default-image

মোটরসাইকেলচালকেরা অ্যাপ ছাড়াই ‘খেপ’ মারছেন
আজ সকালে পরিবহনশ্রমিকদের কর্মবিরতি চলাকালে হুমায়ূন রশীদ চত্বর এলাকায় অনেকক্ষণ ধরে যানবাহনের আশায় দাঁড়িয়ে ছিলেন বেসরকারি ব্যাংকের কর্মী রাজু ইসলাম। পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন মোটরসাইকেলচালক কোথাও যাবেন কি না, জানতে চাইছেন। তবে তাঁরা ভাড়া বেশি দাবি করায় তিনি অনেকটা ইতস্তত বোধ করছিলেন। কিন্তু কাজে তো যেতেই হবে তাঁকে।

রাজু বলেন, রাইড শেয়ারিংয়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করা এসব মোটরসাইকেলচালকেরা সাধারণত অ্যাপের মাধ্যমেই যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেন। তবে পরিবহনশ্রমিকদের কর্মবিরতির সুযোগে নিয়ম না মেনে চুক্তিভিত্তিক ভাড়ায় যেতে চাইছেন তাঁরা। এতে ভাড়াও কিছুটা বেশি চাইছেন।

রাজু আরও বলেন, পরিবহনশ্রমিকদের কর্মবিরতি না থাকলেও কিছু কিছু চালক ‘খেপ’মারেন। তবে সে সময়ও অধিকাংশই অ্যাপে চলেন। কিন্তু আজ অ্যাপে চালক নেই বললেই চলে। সব চালকই মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে যাত্রীদের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে চুক্তি করে যাচ্ছেন।

রাজুর কথার সত্যতা মিলল নগরের বিভিন্ন মোড়গুলো ঘুরে। কয়েকজন চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এখন রাস্তায় গণপরিবহন না থাকায় তাঁরা অ্যাপ বন্ধ রেখে ভাড়া খাটছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চালক জানান, অ্যাপের মাধ্যমে সেবা দিলে ভাড়ার একটি অংশ কমিশন হিসেবে প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে। সে তুলনায় চুক্তি করে ভাড়ায় গেলে সবটুকুই চালক পাবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন