বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর পরিদর্শন করতে বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে প্রায় কয়েক হাজার পর্যটকের উপস্থিতি দেখা গেছে।

অনেকেই বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে পর্যটনকেন্দ্রে আসতে দেখা গেছে। ঈদের ছুটিতে বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছেন তাঁরা। ঘুরতে আসা পর্যটকদের অধিকাংশই সিলেটের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। তবে কিছু পর্যটক দেশের বিভিন্ন এলাকা এসেছেন।

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সাদাপাথরে ঘুরতে আসা সিলেটের বিশ্বনাথের বাসিন্দা সামাদ আহামদ বলেন, শুক্রবার থেকে আবার কঠোর বিধিনিষধ। এর আগে আরেক দফা বিধিনিষেধে বাড়িতেই ছিলাম। ঈদ উপলক্ষে যুক্তরাজ্য থেকে ভাই এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরাও দেশে এসেছেন। বিধিনিষেধের সময় আর বাড়ি থেকে বের হওয়া যাবে না। এ জন্য আজই ঈদের ঘোরাঘুরি করে নিচ্ছি।

হবিগঞ্জ থেকে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে আসা আবুল বাশার বলেন, ‘কাল (শুক্রবার) থেকে বিধিনিষেধ। শুনেছি এবার বিধিনিষেধ নাকি কঠোর হবে। এ জন্য আজই (বৃহস্পতিবার) ছয় বন্ধু মিলে মোটরসাইকেল নিয়ে ঈদের বেড়াতে এসেছি। সন্ধ্যার আগেই চলে যাব।’
নেত্রকোনা থেকে বন্ধুদের নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে সাদাপাথরে বেড়াতে এসেছিলেন জামাল আহমদ। তিনি বলেন, সকালেই সিলেটে এসে পৌঁছেছি। পরে রাতারগুলে বেড়ানোর পর দুপুরের দিকে সাদাপাথরে এসেছি।

কোম্পানীগঞ্জের বাসিন্দা সবুজ আহমদ বলেন, ঈদের দিন সাদাপাথরে পর্যটক কম ছিল। আজ বৃহস্পতিবার হাঠৎই পর্যটক বেড়ে গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে পর্যটকদের আনাগোনা আরও বড়াছে। বিকেল ও সন্ধ্যার আগে আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে সিলেট শহরতলীর মালনি ছড়া, তারাপুর, লাক্কাতুরা চা–বাগান এলাকায়ও পর্যটকদের ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। ভিড় দেখা গেছে সিলেটের টিলাগড় ইকোপার্কেও।

ট্যুরিস্ট পুলিশের সিলেটের জাফলং জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রতন শেখ বলেন, ‘বেলা ১১টার পর থেকে জাফলং ও বিছনাকান্দিতে পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। আমরা তাঁদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে ভিড় এড়িয়ে চলতে এবং করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা থাকায় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বেশি সময় অবস্থান করতে নিরুৎসাহিত করছি।’ তিনি বলেন, ‘অনেকেই চলে এসেছেন। তাঁদের আমরা ফিরিয়ে না দিলেও নিরুৎসাহিত করছি। ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি স্কাউট সদস্যরাও পর্যটকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে কার্যক্রম চালাচ্ছেন।’

সিলেট অঞ্চলের ট্যুরিস্ট পুলিশের সুপার মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন বলেন, ‘সিলেটে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ঈদের ছুটিতে পর্যটকেরা ভিড় করছেন। আজই বেশি ভিড় জমেছে। কাল থেকে কঠোর বিধিনিষেধের কথা শুনে পর্যটকেরা ঈদের ঘোরাঘুরি করে নিচ্ছেন। আমরা তাঁদের ভিড় এড়িয়ে চলতে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে প্রচারণা চালাচ্ছি। পাশাপাশি কাল থেকে পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকার বিষয়টি অবহিত করছি।’

আলতাফ হোসেন বলেন, লকডাউন শিথিল হওয়ায় রাস্তাঘাটে আটকে দেওয়া হচ্ছে না। এ জন্য পর্যটক বেড়েছে। তবে কাল থেকে বিধিনিষেধে সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ‘বিধিনিষেধ শিথিল থাকায় সাদাপাথরে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। আমরা তাঁদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি। উপজেলা প্রশাসনের একটি টিম সেখানে পর্যটকদের করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতন এবং মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন