বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সিলেটবাসী। বাসা-বাড়িতে দেখা দিয়েছ পানি সংকট। নগরের মণিপুরি রাজবাড়ি এলাকার ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলের উদ্যাগে স্থানীয়দের পানি দেওয়া হচ্ছে। রাজবাড়ি, সিলেট
বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সিলেটবাসী। বাসা-বাড়িতে দেখা দিয়েছ পানি সংকট। নগরের মণিপুরি রাজবাড়ি এলাকার ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলের উদ্যাগে স্থানীয়দের পানি দেওয়া হচ্ছে। রাজবাড়ি, সিলেটআনিস মাহমুদ

চল্লিশোর্ধ্ব এক নারী হন্তদন্ত হয়ে ছুটছেন। কাঁখে তাঁর কলস। তাঁর পেছন পেছন আরেক নারী দুটি বালতি হাতে চলেছেন। তাঁদের বাসা সিলেট নগরের হাওলাদারপাড়া এলাকায়। প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ব্রাহ্মণশাসন এলাকার পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করতে এসেছেন তাঁরা। এ দৃশ্য আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার।

সুস্মিতা দাশ নামের চল্লিশোর্ধ্ব ওই নারী বলেন, সিলেটের আখালিয়ার কুমারগাঁও বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে আগুন লাগার পর গতকাল বেলা পৌনে ১১টা থেকে নগর বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থায় সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ পানি সরবরাহ করতে পারছে না। পাশাপাশি বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যক্তি উদ্যোগেও অনেকে মটর দিয়ে পানি উত্তোলন করতে পারছেন না। এর ফলে পানির তীব্র সংকটে ভুগছেন তাঁরা। এখন এক প্রতিবেশীর কাছে ব্রাহ্মণশাসন এলাকার পুকুরের খবর পেয়ে পানি সংগ্রহ করতে এসেছেন।

নগরের ২৭টি ওয়ার্ডের প্রায় প্রতিটি পাড়া-মহল্লাতেই এখন পানির জন্য হাহাকার চলছে। দেখা গেছে, নগরের বাগবাড়ি, মদিনা মার্কেট, পাঠানটুলা, কালীবাড়ি, হাওলদারপাড়া, শিবগঞ্জ, রায়নগর, কুমারপাড়া, ঝরনারপাড়, শেখঘাট, চালিবন্দর, কামালগড়, ছড়ারপাড়, লামাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা পানির অভাবে গৃহস্থালি কাজ থেকে শুরু করে গোসল ও নিত্যক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারছেন না। এসব এলাকায় সুপেয় পানিরও অভাব দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নগরজুড়ে পানির তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় অনেককে ব্যক্তিগত উদ্যোগে জেনারেটরের সাহায্যে স্থানীয় লোকজনকে পানি সরবরাহ করতে দেখা গেছে। মণিপুরি রাজবাড়ি এলাকায় স্থানীয় ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শান্তনু দত্ত সন্তুর বাসা। গতকাল বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর থেকে নিজস্ব জেনারেটরের সাহায্যে তিনি স্থানীয় লোকজনকে ব্যক্তিগতভাবে পানি সরবরাহ করে যাচ্ছেন। কাউন্সিলর প্রথম আলোকে জানান, আজ সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত তিনি কয়েক শতাধিক মানুষকে পানি দিয়েছেন। বিদ্যুৎ না আসা পর্যন্ত তাঁর এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে। একইভাবে আজ সকাল থেকে কাজলশাহ এলাকায় ইসকন মন্দির কর্তৃপক্ষের উদ্যোগেও স্থানীয় লোকজনকে জেনারেটরের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করে সরবরাহ করতে দেখা গেছে।

default-image

বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মাহমুদুল হক বলেন, ‘পানির অভাবে বড় কষ্টে আছি। দুদিন ধরে গোসল নেই। টয়লেটের জন্য কিছু পানি জমিয়ে রেখেছিলাম, তা-ও শেষ। এখন বড্ড চিন্তায় আছি।’ কুমারপাড়া এলাকার গৃহিণী মর্জিনা বেগম বলেন, ‘পানির অভাবে রান্নাবান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। আজ সকালের নাশতা তাই বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে নগর বিদ্যুৎহীন থাকলেও দ্রুততার সঙ্গে কেন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না, সেটা বুঝে উঠতে পারছি না।’

সিলেট সিটি করপোরেশনের পানি সরবরাহ শাখা সূত্রে জানা গেছে, নগরে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ বাসিন্দা আছেন। দৈনিক পানির চাহিদা রয়েছে ৮ কোটি লিটার। এর মধ্যে সিটি কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করতে পারে। সিটি করপোরেশনের পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর জানান, গতকাল বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে ১ কোটি লিটার পানি তাঁরা সরবরাহ করতে পেরেছেন। বিদ্যুতের অভাবে আজ বুধবার কোনো পানিই সরবরাহ করতে পারেননি। তাই নগরজুড়ে তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ) খন্দকার মোকাম্মেল হোসেন আজ বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে প্রথম আলোকে জানান, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নগরের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করার চেষ্টা তাঁরা করছেন। এ জন্য প্রায় ৪০০ জন কর্মী অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র সংস্কারে কাজ করছেন। তবে দ্রুততার সঙ্গে সব এলাকাতেই বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে তাঁরা চেষ্টা চালাচ্ছেন।

গতকাল বেলা পৌনে ১১টার দিকে সিলেটের আখালিয়ার কুমারগাঁও বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার দুই ঘণ্টা পর পৌনে একটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। এ উপকেন্দ্রের অধীনে সিলেট ও সুনামগঞ্জের প্রায় ৪ লাখ ৩২ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। সুনামগঞ্জের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও সিলেট জেলা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0