সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ ও মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম আহমদসহ অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি পিডিবির সিলেট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২–এর নির্বাহী প্রকৌশলী শামছ-ই-আরেফিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য যান। প্রায় ১০ মিনিট পর শামীম আহমদ নামের এক ব্যক্তি যুবলীগ নেতার পরিচয় দিয়ে দরপত্রসংক্রান্ত নথিপত্র দেখানোর জন্য তাঁকে চাপ দেন। একপর্যায়ে তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও পরে বাইরে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এতে ওই প্রকৌশলী নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত রয়েছেন এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন।

পিডিবি বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২–এর নির্বাহী প্রকৌশলী কার্যালয়ের তিনজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ ও মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম আহমদ প্রথমে নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। এ সময় তাঁদের সঙ্গে আরেক যুবক ছিলেন। এর প্রায় ১০ মিনিট পর যুবলীগ নেতা পরিচয়ে শামীম আহমদ প্রকৌশলীর কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় রাহেল সিরাজ ও নাঈম আহমদ শামীমের সঙ্গে প্রকৌশলীকে পরিচয় করিয়ে দেন। পরিচয়ের একপর্যায়ে শামীম বার্ষিক ক্রয়সংক্রান্ত দরপত্র প্রকৌশলীকে দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। এতে রাজি না হওয়ায় একপর্যায়ে গালিগালাজ করে প্রকৌশলীর ছবি তোলে বাইরে বের হলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একপর্যায়ে প্রকৌশলীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষের পাশে গেলে ওই যুবলীগ নেতা বাইরে বের হয়ে যান।

এ সম্পর্কে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম আহমদ বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন আমাকে ফোন দিয়েছেন। তবে ব্যাপারটি আমার জানা নেই। অসুস্থ বাবাকে নিয়ে তিন দিন ধরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবস্থান করছি।’

সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ বলেন, ‘শামছ-ই-আরেফিনের সঙ্গে আগে পরিচয় হয়েছে। তবে সেটি গত মঙ্গলবারে ছিল কি না, সেটি ঠিক মনে নেই। সে সময় আমাদের সামনে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্রকৌশলীকে হুমকি-ধমকি দেওয়ার বিষয়টিও আমাদের জানা নেই।’

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য যুবলীগ নেতা পরিচয়ধারী শামীম আহমদের সঙ্গে একাধিকবার তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী মাহমুদ বলেন, ‘শামীম নামের এক ব্যক্তি বিদ্যুতের এক প্রকৌশলীকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। সেটি তদন্ত করছি। তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন