default-image

যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেকের সিলেটের দক্ষিণ সুরমার তেতলি এলাকার বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের নিন্দা জানিয়েছে সিলেট বিএনপি। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা ও মহানগর বিএনপি পৃথক দুটি বিবৃতিতে হামলার ঘটনাকে ‘ন্যক্কারজনক’ অভিহিত করে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত শাস্তির দাবি জানান। তবে এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আদর্শিক মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিকের বাড়িতে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নামদারী সন্ত্রাসীরা হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। এর মাধ্যমে সিলেটের দীর্ঘদিনের রাজনীতির সহনশীল ও সম্প্রীতির রাজনীতির ইতিহাসে কলঙ্কের কালিমা লেপন করা হয়েছে। আগে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শহরের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি শুরু করে। এর ধারাবাহিকতা জেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দিয়েছে।’ এর পরিণতি কারও জন্য মঙ্গলজনক হবে না উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই সরকারই শেষ সরকার নয়। সব অন্যায় অপকর্ম ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাব দেশপ্রেমিক জনতা দেবে।’

বিজ্ঞাপন

এদিকে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শামীম সিদ্দিকী যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘মানুষের বাক্‌স্বাধীনতাকে খর্ব করতে এই হামলা সমগ্র জনগোষ্ঠীর জন্য একটি সতর্কবার্তা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ছাড়া আওয়ামী লীগের আর কোনো অবলম্বন নেই। বিএনপি নেতা এম এ মালেকের কণ্ঠকে স্তব্ধ করার জন্যই তাঁর বাড়িতে হামলা হয়েছে। তবে ক্ষমতাসীনদের মনে রাখা উচিত, প্রতিটি হামলা-মামলার জবাব জনগণের কাছে একদিন দিতেই হবে।’

২৭ এপ্রিল রাতে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক ফেসবুক লাইভে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা সম্পর্কে কটূক্তি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে সিলেটে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ছাত্রলীগের শতাধিক নেতা-কর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে ওই বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় তাঁরা বিএনপির ওই নেতার বাসার কয়েকটি দরজা-জানালা ভাঙচুর করেন। পরে আশপাশের বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার পর হামলাকারীরা পালিয়ে যান।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ ঘটনায় কোনো পক্ষই অভিযোগ দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে কটূক্তির জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে ওসি জানিয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন