সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আউডডোর কমপ্লেক্সে হুইলচেয়ারে করে এসে করোনাভাইরাসের টিকা নেন এক প্রবীণ। ছবিটি রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তোলা
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আউডডোর কমপ্লেক্সে হুইলচেয়ারে করে এসে করোনাভাইরাসের টিকা নেন এক প্রবীণ। ছবিটি রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তোলাপ্রথম আলো

৮৮ বছর বয়সী ফুটবলার রণজিত দাস যেমন রয়েছেন, তেমনই আছেন ২৭ বছর বয়সী নোশীন তাসনিম নামের এক চিকিৎসক। বয়োবৃদ্ধ থেকে তরুণ, সিলেটে সব বয়সীরাই নিচ্ছেন করোনার টিকা। আজ রোববার সকাল ১০টা ৫৪ মিনিটে সিলেটে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। অবশ্য এর আগে এক সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী পর্ব হয়।

সকাল ১০টা ৫৪ মিনিটে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানকে টিকাদানের মধ্য দিয়ে সিলেটে করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন, সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আল আজাদসহ বিভিন্ন ব্যক্তি টিকা নেন। টিকা নেওয়ার পর ঘণ্টাখানেক তাঁদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

টিকা নিয়ে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখনো টিকা পৌঁছেনি। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়ানোর ১১ মাসের মাথায় টিকা এল। এটি আমাদের জন্য গর্বের। আমি টিকা নিয়েছি, কোনো সমস্যাই হচ্ছে না। তাই কোনো অপপ্রচারে কান দেওয়া যাবে না। টিকা নেওয়াটাই হচ্ছে একজন সচেতন ব্যক্তির কর্তব্য।’

বিজ্ঞাপন

ফুটবলার রণজিত দাস বলেন, ‘টিকা নিয়েছি। ভালো অনুভূতি। শরীরেও কোনো সমস্যা নেই।’

নগরের খাসদবির এলাকার বাসিন্দা মোছা. ছায়া বেগম (৭৭) বলেন, ‘টিকা নিয়েছি। কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’

চিকিৎসক নোশীন তাসনিম বলেন, ‘প্রত্যেক সচেতন মানুষের টিকা নেওয়া উচিত। তবে টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে আজ প্রচণ্ড ভিড় ছিল। কোনো সামাজিক দূরত্ব এখানে মানা হচ্ছে না, এটি পীড়া দিয়েছে।’

default-image

সিলেট সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১২টি কেন্দ্রে টিকাদান শুরু হয়েছে। এর বাইরে নগরের পুলিশ লাইনসেও আরেকটি কেন্দ্রে টিকাদান কর্মসূচি চলছে। এ ছাড়া জেলার ১০টি উপজেলায় ২টি করে মোট ২০টি কেন্দ্রে টিকাদান কর্মসূচি চলছে। এর বাইরে জালালাবাদ সিএমএইচে আরও ৩টি কেন্দ্র রয়েছে। সিলেট সদর উপজেলার টিকা গ্রহণকারীরা নগরের বাসিন্দাদের সঙ্গে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ কেন্দ্রে টিকা নিচ্ছেন। নগর ও জেলায় মোট ৩৬টি কেন্দ্রে টিকাদান চলছে বলে সিভিল সার্জন কার্যালয় নিশ্চিত করেছে।

সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, ওসমানী হাসপাতাল ও পুলিশ লাইনসে টিকাদান কর্মসূচি সমন্বয় করছে সিটি করপোরেশন। অন্য কেন্দ্রগুলোয় সিভিল সার্জন কার্যালয় সমন্বয় করছে। নগরের ১৩টি কেন্দ্রে আজ ৭৭০ থেকে ৮০০ জনকে টিকা দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে বেলা একটা পর্যন্ত এসব কেন্দ্রে প্রায় ৩৫০ জন টিকা নিয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। আগামীকাল সোমবার থেকে গড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ জনকে টিকা দেওয়া হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচি চলবে।

default-image

টিকাদান কর্মসূচি শুরুর আগে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী পর্ব হয়। ঢাকা থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ এ কে আব্দুল মোমেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান বঙ্কিম হালদার। আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্য দেন সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

উদ্বোধনী পর্ব শেষে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান বঙ্কিম হালদার সাংবাদিকদের জানান, সুষ্ঠু পরিবেশে টিকাদান কর্মসূচি চলছে। প্রথম দিন হওয়ায় মানুষের ভিড় একটু বেশি হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব সঠিকভাবে মানা যায়নি। তবে দুপুরের পর মোটামুটি সামাজিক দূরত্ব মেনেই টিকাদান চলছে। আগামীকাল থেকে আরও গোছালোভাবে টিকাদান কর্মসূচি চলবে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন