সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে জমে থাকা বৃষ্টির পানি। নগরের শিবগঞ্জ এলাকা
সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে জমে থাকা বৃষ্টির পানি। নগরের শিবগঞ্জ এলাকা প্রথম আলো

বৃষ্টিতে সিলেট নগরের কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তবে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার পর বিকেলে অবস্থার উন্নতি হয়। গত রোববার সকাল থেকে থেমে থেমে সিলেটে বৃষ্টি হচ্ছে। গত দুই দিনে ৬১ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়। এতে নগরের সুবিদবাজার, বনকলাপাড়া, হাউজিং এস্টেট, জালালাবাদ, লোহারপাড়া, বাগবাড়ি, কুয়ারপার, চারাদিঘীরপাড়, হাওয়াপাড়া, বারুতখানা, সোবহানীঘাট, কলবাখানি, কুয়ারপাড়, কাজলশাহ, পাঠানটুলা, খোজারখলা, ভার্থখলা, মেনিখলা, বারখলা, পাঠানপাড়ার নিচু এলাকাসহ রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। শিবগঞ্জ, দাড়িয়াপাড়া, জামতলা, চৌহাট্টার সড়ক ও জনপদ অফিসের সামনে, জিন্দাবাজার, নয়াসড়ক, ছড়ারপাড়, পুরানলেন, শেখঘাট, ঘাসিটুলা, কলাপাড়া, ভাতালিয়া, শাহজালাল উপশহরসহ অন্তত ৫০টি মহল্লায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন ওই সব এলাকার বাসিন্দারা।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাইদ আহম্মদ চৌধুরী জানান, গতকাল সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩২ দশমিক ২ মিলিমিটার ও গতকাল থেকে আজ ভোর ৬টা পর্যন্ত ৩১ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

সিলেট নগরের একপাশ দিয়ে সুরমা নদী বয়ে গেছে। নগরের উত্তর দিক থেকে ১১টি ছড়া ও খাল গিয়ে মিশেছে সুরমা নদীতে। এসব ছড়া-খালের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে সিটি করপোরেশনের ড্রেনগুলোর (নালা)। বৃষ্টিতে সুরমা নদীর কানাইঘাট ও সিলেট শহর পয়েন্টে পানি বাড়ায় ছড়া-খাল-নালার পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।

জলাবদ্ধ এলাকার বাসিন্দাদের ভাষ্য, বৃষ্টি হলে ছড়া ও নালা দিয়ে পানি সুরমা নদীতে গড়ায়। কিন্তু নদীর পানি বাড়ায় গতকাল মধ্যরাতে এক দফা ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। আজ সকালেও বৃষ্টি হওয়ায় জলাবদ্ধ অবস্থার অবনতি ঘটে। সুরমাতীরের বসতি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ছড়া-নালার পানির প্রবাহ স্থবির হয়ে আছে। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, কিছু কিছু নালা ও ছড়া আবর্জনায় পূর্ণ থাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় বেলা দুইটার পর থেকে পানি নামতে দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, সুরমা নদীর পানি বাড়ায় ছড়া ও নালা দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে ধীরগতিতে। এ কারণে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সিলেট নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের সব কটি এলাকার নালা (ড্রেনেজ) ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয়েছে। পুরোনো অনেক নালা ভেঙে পানির সহজ নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে গভীরতা ও আকৃতি বড় করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দৈনিক পানির স্তর-সম্পর্কিত তথ্যের বরাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শহীদুজ্জজামান সরকার জানিয়েছেন, সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে গতকাল সন্ধ্যায় ৯ দশমিক ৩৮ মিটার উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হয়। আজ সকাল ও দুপুরে দুই দফা সেখানে পানি বাড়ে। দুপুর ১২টার দিকে কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমার পানি ৯ দশমিক ৪২ মিটার থেকে বেড়ে বেলা ৩টায় ৯ দশমিক ৪৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়। একই সময় সুরমা নদীর সিলেট শহর পয়েন্টে পানি ৮ দশমিক ১২ মিটার থেকে ৮ দশমিক ২১ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল।

মন্তব্য পড়ুন 0