default-image

স্থানে স্থানে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দ। পিচ উঠে পাথর বেরিয়ে এসেছে। কোথাও আবার সৃষ্টি হয়েছে বড় গর্তের। তাই রিকশা কিংবা সিএনজি অটোরিকশার যাত্রীদের প্রচণ্ড ঝাঁকুনি সহ্য করে চলতে হচ্ছে। গত শুক্রবার বিকেলে সিলেট নগরের সাতটি এলাকার সড়কে এমন দুরবস্থা দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের চালিবন্দর, সোবহানীঘাট, সার্কিট হাউস রোড, কালীঘাট, কারিপাড়া, নয়াপাড়া ও হুমায়ুন রশীদ চত্বর এলাকার সড়কগুলো ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে।

এ অবস্থায় এলাকাবাসীকে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়েই দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে এসব সড়কে অনবরত ধুলো ওড়ে আর বৃষ্টিতে কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়।

কালীঘাট এলাকার দুজন ব্যবসায়ী বলেন, নগরের প্রধান পাইকারি বাজার হচ্ছে কালীঘাট। বিভিন্ন অঞ্চলের হাটবাজারের হাজারো ব্যবসায়ী এখানে প্রতিদিন পাইকারি দরে বাজার করতে আসেন। অথচ দিনের পর দিন এ এলাকার একাংশ ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। একাধিকবার সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হলেও ভাঙাচোরা অংশ সংস্কারে কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হচ্ছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব সড়ক সংস্কারহীন থাকলেও তা সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেই। তাই নগরবাসীকে প্রচণ্ড ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। চালিবন্দর এলাকার বাসিন্দা মোজাম্মেল হক বলেন, এলাকার সড়কটি অনেক দিন ধরেই ভেঙে বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে। এতে এলাকাবাসী দুর্ভোগ পোহালেও তা দেখার যেন কেউ নেই। হুমায়ুন রশীদ চত্বর এলাকার ব্যবসায়ী নাজমুল ইসলাম জানান, এ চত্বর দিয়ে নগরের বৃহত্তম বাস টার্মিনাল কদমতলীতে যেতে হয়। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কই বেহাল ও বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসী ও সড়কের আশপাশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক থেকে দেড় বছর ধরে এসব সড়ক ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমের ভারী বৃষ্টিপাতে এসব সড়কের আরও করুণ হাল হয়েছে। বিটুমিন-কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। অনেক রিকশাচালক ভাঙাচোরা সড়কে যাতায়াতের জন্য অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করে থাকেন। এতে যাত্রীরা ভোগান্তির সঙ্গে আর্থিকভাবেও ক্ষতির মুখে পড়ছে। বিশেষত হুমায়ুন রশীদ চত্বর ও কালীঘাট সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে।

ভাঙাচোরা সড়কের আশপাশের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ হয়তো সড়কগুলোতে সংস্কারকাজ করতে পারবে না। তবে স্থানীয়দের ভোগান্তির বিষয়টি মাথায় রেখে অন্তত ভাঙাচোরা অংশে বালু-পাথর ফেলে কিছু জরুরি সংস্কারকাজ করতে পারে। এতে দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমবে। ভাঙাচোরা সড়কে, বিশেষত রাতের বেলায় প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, সড়কগুলো ভাঙা থাকায় বয়স্ক ব্যক্তি, নারী, শিশু ও রোগীদের পথ চলতে সমস্যা হয়।

নাগরিক মৈত্রী সিলেটের আহ্বায়ক ও সিলেট জেলা কর আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সমর বিজয় সী শেখর বলেন, নাগরিক ভোগান্তির বিষয়টি নিরসন করতে ভাঙাচোরা সড়কগুলো দ্রুত সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে সংস্কার করা উচিত।

সিলেট সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বৃষ্টি থাকায় অনেক সড়ক সংস্কার করা যাচ্ছে না। তবে বৃষ্টি কমে এলেই সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0