সিলেটে মুক্তিযোদ্ধা চত্বর বেহাল ২ বছর

বিজ্ঞাপন
default-image

গোলাকার চত্বরের মধ্যে পানি জমে রয়েছে। তাতে ভাসছে শেওলা আর ময়লা-আবর্জনা। সেই পানিতে ভ্রাম্যমাণ সবজি বিক্রেতারা সবজি ধুয়ে টুকরিতে রাখছেন। একই স্থানে একটি ট্রাক, টেম্পো, মাইক্রোবাস ও যাত্রীবাহী বাস দাঁড়িয়ে আছে। এ দৃশ্য সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কদমতলী এলাকায় অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের।

স্থানীয় কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে মুক্তিযোদ্ধা চত্বর নির্মাণ করা হয়েছিল। এখানে চতুষ্কোণ একটি স্তম্ভ ছিল। দুই বছর আগে ওই এলাকার সড়কটি প্রশস্তকরণের জন্য সড়ক ও চত্বর ভেঙে নতুনভাবে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। চত্বরের পাশের সড়কটি নির্মাণ করা হলেও চত্বরের কাজ এখনো শেষ হয়নি। এরপর থেকেই স্থানটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে।

কদমতলী এলাকার ব্যবসায়ী কায়সার আহমেদ বলেন, মুক্তিযোদ্ধা চত্বর নামে স্থানটির পরিচিতি সিলেটজুড়েই রয়েছে। অথচ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ চত্বর এভাবে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকাটা দুঃখজনক। চত্বরের ভেতর নোংরা ও দুর্গন্ধময় হয়ে রয়েছে। এ ছাড়া স্থানটি দীর্ঘদিন ধরেই অস্থায়ী গাড়ি রাখার স্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে। চত্বরের পরিবেশ সুন্দর রাখতে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কদমতলী এলাকায় নগরের সর্ববৃহৎ বাস টার্মিনাল অবস্থিত। এলাকাজুড়ে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শুরু করে বৃহত্তর সিলেটের তিন জেলা ও বিভিন্ন উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে। অনেক সময় বাস টার্মিনালের ভেতর স্থানাভাবে বাস মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। চত্বরে আগের মতো কোনো স্থাপনা না থাকায় অনেকটা অস্থায়ী স্ট্যান্ড হিসেবেই স্থানটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে চারটার দিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, চত্বরে ১০ ইঞ্চি উচ্চতার যে ইটের বেষ্টনী দেওয়া রয়েছে, সেখানকার বেশ কিছু স্থানের ইট খসে পড়েছে। চত্বরের মধ্যে জমে থাকা পানি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সেখানে চারজন সবজি ব্যবসায়ী লতা, কলমিশাকসহ বিভিন্ন সবজি পরিষ্কার করছেন। চত্বরের ভেতরে দাঁড় করিয়ে রাখা একটি বাস ও ট্রাকের ভেতরে থাকা দুই ব্যক্তি গল্পগুজব করছেন। এই সময় এক সবজি ব্যবসায়ী বলেন, ‘ভাই, ভুল হয়ে গেছে।’ আর ট্রাকের ভেতরে থাকা ব্যক্তি বলেন, ‘সবাই রাখে। তাই চত্বরের ভেতরে আমিও ট্রাক রেখেছি। একটু পরই চলে যাব।’

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী রিতেশ বড়ুয়া প্রথম আলোকে জানান, সড়কটি তাঁদের আওতাধীন। তবে সে সড়কে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ নির্মাণকাজ করছে।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে কদমতলী এলাকার মুক্তিযোদ্ধা চত্বর-সংলগ্ন সড়ক এবং সুরমা নদীর তীরে ওয়াকওয়ে নির্মাণের জন্য প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এর ফলে সড়কের মধ্যে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা চত্বরটি ভেঙে পরিসর আরও বাড়ানো হয়। এ কাজেরই অংশ হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে একটি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা তৈরিরও সিদ্ধান্ত রয়েছে। এরই মধ্যে চত্বরের জন্য নকশা চেয়ে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছিল। তবে জমা পড়া নকশা পছন্দ না হওয়ায় ফের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা চত্বরটি পড়েছে নগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে। এ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ তৌফিক বকস প্রথম আলোকে বলেন, ৩০ জুলাই এ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সড়কের মধ্যে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা চত্বরটি নির্মাণ ছাড়া সব কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। চত্বরের জন্য নকশা চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। নকশা পেলেই চত্বরের কাজ দ্রুত শুরু হবে।

সিলেট মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিটের সাবেক কমান্ডার ভবতোষ রায় বর্মণ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে অম্লান রাখতে মুক্তিযোদ্ধা চত্বরটি নির্মিত হয়েছিল। দুই বছর ধরে চত্বরটি বেহাল। এটি প্রত্যক্ষ করাটা দুঃখজনক। দ্রুত এই কাজ শেষ করে চত্বরটি দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় করা হোক।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন