বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জিন্দাবাজার এলাকায় সিটি সেন্টার, ব্লু-ওয়াটার শপিং সিটি, কাজী ম্যানশন, আল-হামরা শপিং সিটি, শুকরিয়া মার্কেট, সিলেট প্লাজা, আহমদ ম্যানশন, মিতালী ম্যানশন এবং বন্দরবাজার এলাকার হাসান মার্কেট ও মধুবন সুপার মার্কেটে ক্রেতাদের প্রচুর ভিড় দেখা গেছে। একইভাবে জেলরোড এলাকায় আড়ং এবং নয়াসড়ক এলাকায় ফ্যাশন হাউস মাহাসহ বিভিন্ন বিপণিবিতানে ছিল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। নগরের কুমারপাড়া ও লামাবাজার এলাকায়ও একই দৃশ্য ছিল। মহাজনপট্টি এলাকার পোশাকের পাইকারি বাজারেও ক্রেতাদের কেনাকাটা করতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দুপুরের পর থেকেই ক্রেতারা বিপণিবিতানগুলোতে ভিড় জমাতে শুরু করেন। তবে ইফতারের পরই মূলত ক্রেতাদের ভিড় বেশি থাকে। রাত যত বাড়তে থাকে, ক্রেতাদের উপস্থিতিও তত বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় মধ্যরাতেই ঈদের কেনাকাটা বেশি জমে উঠে। বর্ণিল ও বাহারি আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে বিপণিবিতানগুলোকে। গত কয়েক দিন ধরে রাত দুইটা থেকে তিনটা পর্যন্ত এসব বিপণিবিতানে কেনাকাটা চলছে বলে একাধিক বিক্রেতা জানিয়েছেন।

লামাবাজার এলাকার কাপড়ের দোকান ষড়ঋতুর প্রধান নির্বাহী হুমায়ূন কবির জুয়েল বলেন, সিলেটে সাধারণত দিনের চেয়ে রাতের বেলাই ঈদের কেনাকাটা বেশি জমে, এটাই এখানকার দীর্ঘদিনের চিরায়ত রীতি। তবে করোনা পরিস্থিতিতে গত দুই বছর এর ব্যত্যয় ঘটেছে। বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় আবার সেই পুরোনো দৃশ্য ফিরে এসেছে। তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবারের কেনাকাটা অনেক ভালো হচ্ছে। এ কারণে ব্যবসায়ীরাও খুশি।

একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, প্রথমে অনেক ব্যবসায়ী ধারণা করেছিলেন, এবার ঈদের বাজার জমবে না। তাই যেসব ব্যবসায়ী নিত্যনতুন নকশার পোশাক এবার দোকানে তুলেছিলেন, তাঁরা লোকসানের আশঙ্কা করেছিলেন। তবে গত কয়েক দিনে পরিস্থিতি বদলে গেছে। ঈদের বাজার পুরোপুরি জমে উঠেছে। কেনাকাটা হচ্ছে প্রচুর। তাই ব্যবসায়ীদের মনের আশঙ্কাও দূর হয়ে গেছে। ঈদের আগের রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের একই রকমের ভিড় থাকবে বলে ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করেছেন। কিছু ব্যবসায়ী অবশ্য জানিয়েছেন, ভিড় থাকলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী তাঁদের বিক্রি হচ্ছে না।

নয়াসড়ক এলাকায় কথা হয় দুই বান্ধবী জান্নাতুল আরা এবং সানজিদা বেগমের সঙ্গে। কলেজপড়ুয়া এই দুই তরুণী জানান, তাঁরা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে সহপাঠী। ঈদের সময়টাতে সেই ছোটবেলা থেকেই তাঁরা একই নকশা ও রঙের পোশাক পরেন। গত দুই বছর করোনার কারণে তা পারেননি। এবার তাঁরা আগের নিয়মে ফিরে ঈদের আনন্দ উপভোগ করবেন এবং অন্য সহপাঠীদের বাসায় যাবেন। তাই দুই বান্ধবী মিলে উভয়ের জন্য একই রঙের শাড়ি ও থ্রি-পিস কিনবেন।

ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বরাবরের মতো এবারও মেয়েদের কাছে থ্রি-পিস ও লেহেঙ্গা এবং নারীদের কাছে শাড়ির চাহিদাই শীর্ষে আছে। পুরুষ কিংবা তরুণদের মধ্যে পাঞ্জাবি-পায়জামা, ফতুয়া টি-শার্ট-জিনস প্যান্টের চাহিদাই বেশি। তরুণীরা দেশীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাকের পাশাপাশি ভারতীয় লেহেঙ্গা ও থ্রি-পিস কিনছেন। এর বাইরে জুতা ও প্রসাধনী সামগ্রী কিনতেও তরুণীরা ভিড় করছেন।

একাধিক ক্রেতা জানান, করোনা মহামারির কারণে অনেকে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ কারণে অনেকের হাতে টাকা ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে তাই সেই অর্থে অনেকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেনাকাটা করেননি। এখন পুনরায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় মানুষজন ঈদকে সামনে রেখে কেনাকাটা শুরু করেছেন। নিজেদের পোশাক কেনার পাশাপাশি অতীতের মতো আবারও আত্মীয়-স্বজনদের জন্য অনেকে কেনাকাটা শুরু করেছেন। তাই বেচাকেনা বেড়েছে। দীর্ঘদিন পর বিপণিবিতানগুলোও ক্রেতাদের সরগরমে মুখর।

সিলেট নগরের কুমারপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আফতাবুর রহমান বলেন, দিনের চেয়ে রাতেই ক্রেতারা বেশি আসছেন। রমজানের মাঝামাঝি পর্যন্ত কেনাবেচা খুব একটা জমে ওঠেনি। ফলে যেসব ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন পর দোকানে নতুন মালামাল তুলেছিলেন, তাঁরা খানিকটা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। তবে গত কয়েক দিনে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ের পাশাপাশি বেচাকেনাও বেড়েছে। তাই ব্যবসায়ীদের মুখে হাসিও ফিরেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন