সিলেটে রায়হান হত্যা মামলার বিচার শুরু, সাক্ষ্য গ্রহণ ১০ মে
সিলেটে পুলিশের হেফাজতে রায়হান আহমদ (৩৪) হত্যা মামলার সবিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজ সোমবার সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবদুর রহিমের আদালতে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচার শুরু হয়। এর আগে ১২ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের তারিখ থাকলেও সেটি পিছিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
প্রায় দেড় বছর আগে পুলিশ ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে রায়হান আহমদকে নির্যাতন করা হয়। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। অভিযোগ গঠনের পাশাপাশি মামলার অভিযুক্ত চার আসামির অব্যাহতি আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে আদালতের বিচারক আসামিদের অব্যাহতি আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। অভিযোগ গঠন ও অব্যাহতির আবেদন শুনানি শেষে আজ বেলা একটার দিকে আসামিদের আদালত চত্বর থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নওশাদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, রায়হান হত্যা মামলার অভিযুক্ত সাময়িক বরখাস্ত হওয়া উপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য ও এক পলাতক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী ১০ মে আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। মামলার দীর্ঘদিন পর অভিযোগ গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে একজন আসামি পলাতক আছেন। তাঁর ব্যাপারে বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে অভিযোগ গঠনে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হওয়ায় আশা করা যাচ্ছে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মামলার অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে পলাতক আসামি আবদুল্লাহ আল নোমান ছাড়া বাকি পাঁচ আসামি আজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ১২ এপ্রিল অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে আকবর হোসেন ভূঁইয়া, টিটু চন্দ্র দাস (৩৮), আশেক এলাহী (৪৩), মো. হাসান উদ্দিন (৩২) আইনজীবীর মাধ্যমে অব্যাহতির আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে বিচারক আবদেন নামঞ্জুর করেন।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী এম এ ফজল চৌধুরী ও মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ জানান, মামলার সাক্ষী করা হয়েছে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে। তাঁদের মধ্যে বাদীসহ দুই-একজন আগামী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখে সাক্ষ্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
২০২০ সালের ১০ অক্টোবর মধ্যরাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে রায়হান আহমদকে নির্যাতন করা হয়। ১১ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে রায়হানের স্ত্রীর করা মামলার পর মহানগর পুলিশের একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে ফাঁড়িতে নিয়ে রায়হানকে নির্যাতনের সত্যতা পায়। ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চারজনকে ১২ অক্টোবর সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর পুলিশি হেফাজত থেকে কনস্টেবল হারুনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রধান অভিযুক্ত আকবরকে ৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত বছরের ৫ মে আলোচিত এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয় মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই। অভিযোগপত্রে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে (৩২) প্রধান অভিযুক্ত করা হয়। অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন সহকারী উপপরিদর্শক আশেক এলাহী (৪৩), কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ (৩২), টিটু চন্দ্র দাস (৩৮), ফাঁড়ির টুআইসি পদে থাকা সাময়িক বরখাস্ত এসআই মো. হাসান উদ্দিন (৩২) ও এসআই আকবরের আত্মীয় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান (৩২)। অভিযোগপত্রভুক্ত ছয় আসামির মধ্যে পাঁচ পুলিশ সদস্য কারাবন্দী। আসামি আবদুল্লাহ আল নোমান পলাতক।