বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বইপত্রের তথ্যমতে, ১৮৫০ সালে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। স্মৃতিস্তম্ভের জন্য টিলাটিও তখন বর্গাকৃতির সুউচ্চ করা হয়েছিল। চূড়ায় উঠে দেখা গেছে, প্রায় ২৫ ফুট উঁচু, সাড়ে ৪ ফুট চওড়া স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে মার্বেল পাথরে খোদাই করা ইংরেজি হরফে জর্জ ইংলিশ ও তাঁর স্ত্রী হ্যানরি ইংলিশ দম্পতির কথা লিপিবদ্ধ আছে। এটি নির্মাণের পর হ্যানরি যুক্তরাজ্য চলে যান। আর ফিরে আসেননি তিনি। তাঁদের ছেলে হেরি ইংলিশ চুনাপাথর ব্যবসা করে মেঘালয়ে ফিরে যান। শিলংয়ের চেরাপুঞ্জিতে তাঁর সমাধি আছে।

ব্রিটিশ আমল থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পকারখানার জন্য ছাতকের বিশেষ পরিচিতি। ছাতকের এক পাশ দিয়ে বইছে সুরমা নদী। এ জন্য রয়েছে প্রসন্ন নৌপথ।

ব্রিটিশ আমলে স্থাপন করা হয় সিলেট থেকে ছাতক পর্যন্ত রেলপথ। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি থেকে পাথর পরিবহনে দীর্ঘ রজ্জুপথ (রোপওয়ে) পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। আছে সড়কপথও। নৌ-রেল-সড়ক আর রজ্জুপথের সুবিধায় ছাতকে হয়েছিল প্রথম পাল্প অ্যান্ড পেপার মিল। পেপার মিল বন্ধ এখন। তবে এখনো চালু আছে সিমেন্ট কারখানা।

এত সব প্রসিদ্ধির মধ্যে ইংলিশ টিলা দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে শুধু স্মৃতিস্তম্ভটি টিকে থাকার বিস্ময়ে। ছোট থেকে বড় রকমের কোনো ভূমিকম্প হলে মানুষের দৃষ্টি পড়ে টিলায়। বড় ভৈশাল থেকে এ পর্যন্ত ছোট ছোট ভূমিকম্পের মধ্যে স্মৃতিস্তম্ভটির নড়চড় না হওয়ায় অবাক হয়েছেন অনেকে। ভারতের আগরতলার মহারাজা বীর বিক্রম মহাবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক পুর্ণেন্দুকান্তি দাশ তাঁর আত্মজীবনী আমার কাল আমার ভুবন (প্রথম খণ্ড) বইয়ে লিখেছেন, ‌‘১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দের ১২ জুন ভূমিকম্পে গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রায় সব বাড়িঘরই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। প্রায় ৪০ ফুট উঁচু স্মৃতিস্তম্ভের মাঝখানের একটি খণ্ড খসে পড়েছিল এবং ওপরের অংশটি নিচের অংশটির মাথায় বসে পড়েছিল। ভাবতে অবাক লাগে! কী করে তা সম্ভব হয়েছিল? আমি ১৯৫১/৫২ খ্রিষ্টাব্দে স্মৃতিস্তম্ভটি এই অবস্থায় দেখেছি। ব্যাপারটি আমাকে অবাক করে রাখত।’

সম্প্রতি সিলেটে কয়েক দফা ভূমিকম্প হলে টিলার চূড়ার স্মৃতিস্তম্ভে আর কোনো চ্যুতি ঘটল কি না, দেখতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট (আইএবি) সিলেট কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক স্থপতি রাজন দাশ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, উঁচু স্থানে এই স্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছিল ভূমিকম্পে টিকে থাকার বিষয়টি মাথায় রেখে। নির্মাণের কয়েকটি ধাপ দেখা গেছে। একটি ধাপ থেকে আরেকটি ধাপের বিচ্যুতি হলেও স্থাপনাটি টিকে থাকতে পারে—এ নির্মাণভাবনার বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ জন্য বড় ভূমিকম্পেও এটি টিকে আছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন