বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ২০১৪ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতি সেমিস্টারে ৫০ জনের অধিক শিক্ষার্থী ভর্তি না করার নোটিশ জারি করে। কিন্তু এমন নির্দেশনা না মেনে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ আইন বিভাগের ২১, ২২, ২৩ ও ২৪তম ব্যাচে ৫০ জনের অধিক শিক্ষার্থী ভর্তি করে। এতে চার ব্যাচের নির্দিষ্ট সময়ে পড়াশোনা শেষ করেও ৫০ জনের অধিক ভর্তি হওয়া ১৪৮ জনের আবেদন জমা নেয়নি বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ।

এ নিয়ে রিট হলে গত ১৯ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত বিশ্ববিদ্যালয়কে ২৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করে আগামী ২ জানুয়ারির মধ্যে তা জমা দেওয়ার আদেশ দেন। তবে জরিমানার টাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরিশোধের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগে আন্দোলনের ডাক দেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী তারেক আহমদ বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে তিনটি সেমিস্টারের প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান নেন। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ অন্যরা জানিয়েছেন, উচ্চ আদালতের আদেশের বিপরীতে আপিল করা হয়েছে। আগামী ১২ ডিসেম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে রায় না এলে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে উচ্চ আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে জরিমানার টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত লিখিত আকারে জানানোর কথা দিয়েছেন। ফলে তাঁরা আন্দোলন স্থগিত করেছেন।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রধান হুমায়ূন কবির বলেন, ‘আমরা উচ্চ আদালতের আদেশের বিপরীতে আপিল করেছি। সিদ্ধান্ত যদি আমাদের পক্ষে আসে ভালো। না এলে জরিমানার ওই টাকা কীভাবে পরিশোধ করা হবে, সে ব্যাপারে আগামী শনিবার আমরা সিদ্ধান্ত নেব। সেটি শিক্ষার্থীদের জানানো হবে।’

এদিকে আইন বিভাগের প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন হুমায়ূন কবীর। গত শনিবার তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে পদত্যাগপত্রটি জমা দেন। হুমায়ূন কবীর বলেন, তিনি বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার আগে ইউজিসির নির্দেশনা অমান্য করে বিভাগে ৫০ জনের অধিক শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছিল। ফলে শিক্ষার্থীরা যে সমস্যায় পড়েছেন, সেটি নিরসনে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে তিনি চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাঁর ভূমিকা যথাযথ নয় বলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। অনেক সময় বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্বে থাকায় অনেক কিছু করতে পারেননি। এর জন্য তিনি পদটি থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনো কিছু জানায়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন