বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ঈদের ছুটি–পরবর্তী গত বৃহস্পতিবার প্রথম কর্মদিবস শুরু হয়েছে। কিন্তু শুক্র ও শনিবার ছিল সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এই দুই দিনে অনেকেই ঘুরতে সিলেটে এসেছিলেন। ছুটি কাটিয়ে শনিবার থেকে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবীরা। সিলেটে যাঁরা বেড়াতে এসেছেন, তাঁদের অধিকাংশই ঢাকার যাত্রী। তবে সিলেট থেকে ঢাকার বাস-ট্রেনের কোনো টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না।

সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমার কদমতলী বাসস্ট্যান্ডের পাঁচটি টিকিট কাউন্টারে গিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল থেকেই টিকিট সংকট দেখা দিয়েছে। রোববার পর্যন্ত সব আসন বুক করা রয়েছে। এর মধ্যে অনেকেই আসা-যাওয়ার টিকিট আগেই বুক করে রেখেছিলেন। অগ্রিম টিকিট বুক করে রাখায় খুব একটা আসন ফাঁকা ছিল না। যা ছিল সবই শুক্রবার দিনেই বিক্রি হয়ে গেছে।

কদমতলী বাসস্ট্যান্ডে শনিবার রাতের টিকিটের জন্য গিয়েছিলেন সিলেট নগরের মিরাবাজার এলাকার বাসিন্দা মুহিন আহমেদ। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন। ফিরে যাওয়ার টিকিট করতে গিয়ে কোনো টিকিট পাচ্ছেন না। এদিকে রোববার থেকে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা। এখন চাকরি টিকিয়ে রাখতে হলে বিমানে করেই ফিরতে হবে।

ঈদের ছুটিতে পরিবারের পাঁচ সদস্য নিয়ে সিলেটে বেড়াতে এসেছিলেন কাজী ইলিয়াস। ঢাকা থেকে যাওয়া–আসার টিকিট করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বেড়ানো শেষে কখন ফিরবেন সেটি নিয়ে কিছুটা সংশয় ছিল। সে সময় কাউন্টার থেকেও জানানো হয়েছিল সিলেট থেকে যেকোনো সময় টিকিট পাওয়া যাবে। এখন টিকিট পাচ্ছেন না। তিনি ও তাঁর স্ত্রী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। রোববার কর্মক্ষেত্রে যোগ দেওয়ার কথা। এখন পরিবার–পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

টিকিট কাটতে আসা ঢাকার বাসিন্দা সায়মন হক বলেন, সিলেট থেকে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। এ জন্য পর্যটন এলাকা জাফলং ও কোম্পানীগঞ্জ থেকেও টিকিট সংগ্রহের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সবখানেই বলা হচ্ছে এক সপ্তাহ আগেই সব বুক করা। এখন সময়মতো ঢাকায় ফেরা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন।

সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে গিয়েও ১০ মে পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রামের কোনো টিকিট পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে রেলওয়ের অনলাইনেও ১০ মে পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রামের কোনো আসন ফাঁকা দেখা যায়নি।

এ ব্যাপারে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. নুরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। স্টেশনে শনিবার দুপুর ১২টায় গিয়েও পাওয়া যায়নি তাঁকে।

সিলেটের এনা পরিবহনের টিকিট কাউন্টারে থাকা কর্মকর্তা সামু আহমেদ বলেন, শুক্রবার থেকে টিকিট নেই। যাত্রীরা টিকিটের জন্য এসে খালি হাতে ফেরত যাচ্ছেন। এখন তাঁদেরও কিছু করার নেই।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন