গত দুই বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে ঈদে সিলেটের পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের উপস্থিতি খুব একটা লক্ষ করা যায়নি। এবার পর্যটকদের উপস্থিতি আশানুরূপ। সিলেট অঞ্চলের ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ঈদ–পরবর্তী পাঁচ দিন প্রতিদিন দুই লাখ পর্যটক সিলেটের পর্যটন স্পটগুলোতে ঘুরে বেড়াবেন। ঈদের পর থেকে তাঁদের কথার প্রতিফলন পাওয়া যাচ্ছিল পর্যটন স্পটগুলোতে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উন্নয়ন ফি আদায় নিয়ে জাফলংয়ে পর্যটকদের একটি দলের ওপর স্বেচ্ছাসেবীদের হামলার ঘটনা ঘটে। এতে পর্যটকেরা কিছুটা আতঙ্কিত হলেও পরবর্তীকালে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের পর কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচ স্বেচ্ছাসেবককে বরখাস্ত করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

নগরের হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ গেট এলাকায় দাঁড়িয়েছিলেন একদল তরুণ। তাঁরা গাজীপুর থেকে দল বেঁধে সিলেটে বেড়াতে এসেছেন। দলের এক সদস্য সাদমান সাদিক বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে সাত বন্ধু সিলেটে এসে পৌঁছেছেন। রাতে দরগাহ গেট এলাকার একটি হোটেলে ছিলেন। সকালে নাশতা শেষে রাতারগুল, বিছনাকান্দি ও সাদাপাথরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।

সাদমান বলেন, এর আগেও সিলেটে এসেছিলেন। তবে সাত বন্ধুর মধ্যে অধিকাংশ সিলেটে প্রথম এসেছেন। তিনিই তাঁদের গাইড হিসেবে কাজ করছেন।

একই এলাকায় ১০-১১ জন তরুণ একটি বন্ধ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে বসে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিলেন। তাঁদের মধ্যে থাকা এক তরুণ সাব্বির আহমদ বলেন, গত বুধবার ঢাকা থেকে তাঁরা সিলেটে এসেছেন। একটি হোটেলে উঠেছেন। বৃহস্পতিবার সাদাপাথর, রাতারগুল ঘুরেছেন। আজ জাফলং ও জৈন্তাপুরের লালাখালে যাবেন।

সাব্বির বলেন, জাফলংয়ে পর্যটকদের ওপর হামলার বিষয়টি দেখে খুবই খারাপ লেগেছে। তবে প্রশাসন এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ব্যবস্থা নিয়েছে দেখে ভালো লেগেছে। এসব ক্ষেত্রে প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। সব ঘটনার যে ভিডিও থাকবে, এমনটি নয়। কোনো ঘটনার ভিডিও না থাকলেও এমন হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। এ ছাড়া অচেনা জায়গায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও খেয়াল করা প্রয়োজন।

জিন্দাবাজার এলাকায়ও বেশ কিছু মানুষের ভিড় দেখা গেল। এর মধ্যে পাঁচ ভাই রেস্তোরাঁ ও পানসী রেস্তোরাঁর সামনে বেশ কিছু পর্যটকবাহী যানবাহন দাঁড় করা অবস্থায় দেখা গেছে।

default-image

রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়া শেষে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন হবিগঞ্জের বানিয়াচং এলাকার বাসিন্দা ইমতিয়াজ হোসেন। তিনি বলেন, হবিগঞ্জ থেকে সকাল সাতটায় সিলেটে এসে পৌঁছেছেন। নাশতা সেরে এখন সাদাপাথরে রওনা হবেন।

একটি মাইক্রোবাসের পাশে পাঁচ বছরের শিশু জিয়াউল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন মা সামিরা সুলতানা। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে পরিবারের আরও পাঁচ সদস্যকে নিয়ে সিলেটে বেড়াতে এসেছেন। সিলেটে তিন দিন ধরে অবস্থান করছেন তাঁরা। আজ রাতারগুলে বেড়ানো শেষে ঢাকায় ফিরে যাবেন। সকালের নাশতা শেষে পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি।

সিলেট নগরের আম্বরখানা এলাকার হোটেল ব্রিটানিয়ার অভ্যর্থনায় কর্মরত সুমিত দেব বলেন, ঈদের পরদিন থেকে হোটেলের কক্ষ খালি থাকছে না। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে একটি কক্ষ খালি ছিল। সেটিও খালি হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বুকিং হয়ে গেছে। শুক্রবার পর্যন্ত হোটেলে কোনো কক্ষ খালি নেই।

সিলেট ট্যুরিস্ট পুলিশের সুপার মো. আলতাফ হোসেন বলেন, তাঁদের ধারণার চাইতে পর্যটকদের উপস্থিতি বেশি। আশা করছেন, শনিবার পর্যন্ত পর্যটকদের উপস্থিতি থাকবে। পর্যটকদের নিরাপত্তাসহ হয়রানি বন্ধে ট্যুরিস্ট পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন