বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা গেছে, আম্বরখানা-শাহি ঈদগাহ সড়কের আম্বরখানা, ইলেকট্রিক সাপ্লাই ও শাহি ঈদগাহ এলাকা বেশি ভাঙাচোরা অবস্থায় আছে। এ ছাড়া নগরের শামীমাবাদ, মজুমদারপাড়া, বন্দরবাজার, সোবহানীঘাট, উপশহর, মিরাবাজার, শিবগঞ্জ, টিলাগড়, কল্যাণপুর, সেনপাড়া, খরাদিপাড়া, কাজীটুলা, কুমারপাড়া, শাহ চট রোড, মহাজনপট্টি, কালীঘাটসহ অর্ধশতাধিক এলাকার সড়ক ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। এসব সড়কে ছোট–বড় অসংখ্য খানাখন্দ দেখা দিয়েছে। জমে আছে বৃষ্টির পানি। তাই এসব এলাকার বাসিন্দাদের ঘর থেকে বাইরে বেরিয়েই দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। ছয় মাস থেকে দুই বছর ধরে সড়কগুলো ভাঙাচোরা অবস্থায় আছে বলে স্থানীয় ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল শাখা জানিয়েছে, তাদের পর্যবেক্ষণে নগরের ২৫ শতাংশ সড়কে খানাখন্দ রয়েছে। এর মধ্যে ৫ শতাংশ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আওতাধীন। বর্ষা মৌসুম শেষ না হলে এসব ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব নয়। তবে ভাঙাচোরা সড়কের আশপাশের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ হয়তো সড়কগুলোতে সংস্কারকাজ করতে পারবে না। তবে স্থানীয় ব্যক্তিদের ভোগান্তির বিষয়টি মাথায় রেখে অন্তত ভাঙাচোরা অংশে বালু-পাথর ফেলে কিছু জরুরি সংস্কারকাজ করতে পারে।

ইলেকট্রিক সাপ্লাই এলাকার বাসিন্দা আনোয়ারুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অন্তত দুই বছর আগে আম্বরখানা-শাহি ঈদগাহ সড়কের উভয় পাশে নর্দমার কাজের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি করে রাখা হয়েছে। নর্দমার কাজ শেষ হলেও খোঁড়াখুঁড়ি অংশ পুনরায় মেরামত করা হয়নি। এতে সড়ক আরও বেহাল হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতে টানা বৃষ্টিতে সড়কটির আরও করুণ হাল হয়েছে। বিটুমিন-কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। অনেক রিকশাচালক ভাঙাচোরা সড়কে যাতায়াতের জন্য অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেন।

কুমারপাড়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, শাহি ঈদগাহ থেকে কুমারপাড়া এলাকার সড়কটি প্রায় দেড় বছর ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে থাকলেও সেটি সংস্কারে সিটি কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগই নিচ্ছে না। সড়কের গর্তে পড়ে গাড়ি বিকল ও অসহনীয় দুর্ভোগ নিয়েই প্রতিদিন মানুষ চলাচল করেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আম্বরখানা-শাহি ঈদগাহ সড়কসহ নগরের অভ্যন্তরে আরও কিছু সড়ক মেরামতের জন্য গত এপ্রিল মাসে দরপত্র আহ্বানসহ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাখা হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষ হলেই প্রায় ২২ কোটি টাকা প্রকল্পের অধীনে নগরের ভাঙাচোরা সড়কগুলো সংস্কার করা হবে। এর আগে নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে বিধ্বস্ত সড়কে জরুরি সংস্কার করা হবে।

আম্বরখানা-শাহি ঈদগাহ সড়ক প্রসঙ্গে সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী বলেন, সড়কটি প্রশস্তকরণের পাশাপাশি বড় পরিসরে নালা নির্মাণ করা হয়েছে। সড়কের পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটি সরিয়ে এসব নালা নির্মাণ করায় উন্নয়নকাজে সময় একটু বেশি লেগেছে। তবে সড়কটি সওজের আওতাধীন হলেও সিটি করপোরেশন এটি পুনর্নির্মাণ করে দেবে। নালা নির্মাণ শেষ না হওয়ায় এত দিন এটি পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। তাই সড়কটি ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে।

সওজ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নগরের অভ্যন্তরে তাঁদের আওতাধীন আম্বরখানা-শাহি ঈদগাহ সড়কই বেশি বিধ্বস্ত। এটি সিটি করপোরেশন নির্মাণ করে দেবে। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে নগরের পাঠানটুলা ও মদিনামার্কেট এলাকায় নিয়মিত সংস্কার করা সত্ত্বেও প্রায়ই সড়কে খানাখন্দ তৈরি হচ্ছে। মূলত এই দুই স্থানে ড্রেনেজ ব্যবস্থায় সমস্যা আছে। সড়কে পানি জমে থাকায় এমনটা হচ্ছে। তবে এর স্থায়ী সমাধানের জন্যও তাঁরা ভাবছেন। এর বাইরে নগরে তাঁদের যেসব সড়কে টুকটাক ভাঙাচোরা আছে, সেসব ঈদের আগেই সংস্কার করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন