লুভা নদীর পানি লুভা ছড়া পয়েন্টে গতকালের তুলনায় বেড়েছে। গতকাল ১৩ দশমিক ৮৮ সেন্টিমিটার থাকলেও আজ সকাল নয়টায় ছিল ১৩ দশমিক ৯৭ সেন্টিমিটার। সারি নদের সারিঘাট পয়েন্টেও আজ পানি বেড়েছে। গতকালের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়ে আজ সকালে পানি ১১ দশমিক ১১ সেন্টিমিটারে রয়েছে।

ধলাই নদের ইসলামপুর পয়েন্টে নদীর পানি গতকালের তুলনায় কমেছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১০ দশমিক ৬৮ সেন্টিমিটার থাকলেও আজ সকাল নয়টায় কমে ১০ দশমিক ২২ সেন্টিমিটার হয়েছে। সুরমা নদীর সিলেট পয়েন্টেও গতকালের তুলনায় পানি শূন্য দশমিক শূন্য ৭ সেন্টিমিটার কমেছে।

default-image

আজ সকাল থেকে নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বন্যাকবলিত পাড়া-মহল্লাগুলোর বেশির ভাগ এলাকায় পানি কমেছে। তবে এখনো বাসাবাড়িতে ময়লা ও কালো পানি জমে আছে। তাই স্থানীয়রা এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

নগরের জামতলা এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকেন বাতির আলী (৪৫)। দুই বছরের ছেলে রোমন হোসেনকে নিয়ে তিনি ময়লা পানি মাড়িয়ে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়িতে যাচ্ছিলেন। বাতির আলী বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে আছি। এখন বাড়ি ফিরতে চাইছিলাম। কিন্তু বাড়ির সামনে ময়লা পানি। ছেলেকে নিয়ে ঘর দেখে আবার ফিরে যাচ্ছি।’

একই এলাকার বাসিন্দা আমিরুল বেগম (৫০) একটি কাঁঠাল হাতে নিয়ে পানি মাড়িয়ে হাঁটছিলেন। তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার বন্যার কারণে একটি স্কুলে গিয়ে উঠতে হয়েছে। সেখানে খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা তেমন ভালো না। এ জন্য তিনি কাঁঠাল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

জামতলা এলাকায় সলিল রঞ্জন হালদারের (৫৫) সঙ্গে দেখা হয়। তিনি ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা ঘরের মালামালগুলো ঠিক আছে কি না দেখতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘এক মাসের মধ্যে দুবার বন্যা হলো। প্রথম দফায় ঘরে পানি ঢুকেছিল। ওই সময় পানি হাঁটুর নিচে ছিল। তবে বৃহস্পতিবার যে পানি ঢুকছে, সেটা টিকে থাকার মতো ছিল না। মনে হয়েছে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে। ঘরের মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। পরে শিবগঞ্জে আত্মীয়ের বাড়িতে উঠছি। আজ বাড়িঘর দেখতে এলাম।’

এ ছাড়া নগরের মির্জাজাঙ্গাল, মণিপুরি রাজবাড়ি, তালতলা, ঘাসিটুলা, শাহজালাল উপশহর, সোবহানীঘাট, ছাড়ার পাড়, মেন্দিবাগ, মাছিমপুরসহ বেশ কিছু এলাকায় পানি কমলেও এখনো পানি পুরোপুরি কমেনি।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনো খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া ত্রাণসামগ্রী বিভিন্ন ওয়ার্ডে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধিরাই সেগুলো সমন্বয় করে বণ্টন করবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন