বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

একই সূত্রের তথ্যানুযায়ী, লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ হয়েছে ৪৮ হাজার ৬৫৭ দশমিক ৮৪০ মেট্রিক টন। সেদ্ধ চাল কেনার চুক্তির বিপরীতে ২৯ হাজার ৯৪৩ দশমিক ২৮০ মেট্রিক টন কেনা হয়েছে। অন্যদিকে আতপ চাল সংগ্রহ হয়েছে ১৮ হাজার ১৭১ দশমিক ৬২০ মেট্রিক টন। গত ২৮ এপ্রিল থেকে বোরো ধান এবং গত ৭ মে চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়। শেষ হয় ৩১ আগস্ট। সরাসরি এবং কৃষক অ্যাপ উভয় পদ্ধতিতে চার জেলার ১৩টি উপজেলায় ধান কেনা হয়েছে। বিভাগের অন্য উপজেলাগুলোতে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করা হয়েছে।

একনজরে ধান–চাল সংগ্রহের চিত্র

  • সিলেট বিভাগে ৫৮ হাজার ৮২ মেট্রিক টন ধান কেনার কথা ছিল। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান সংগ্রহ হয়েছে ৪৮ হাজার ৬৫৭ দশমিক ৮৪০ মেট্রিক টন।

  • চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০ হাজার ৩৬৯ দশমিক ৬ মেট্রিক টন। চাল সংগ্রহ হয়েছে ৪৮ হাজার ১১৪ দশমিক ৯ মেট্রিক টন।

  • সেদ্ধ চাল কেনার জন্য ৪৭টি এবং আতপ চাল কেনার জন্য ৩৫৬টি চালকলের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, সুনামগঞ্জে ১৩ হাজার ৮৩৭ মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল কেনার চুক্তি হয়েছিল। এর বিপরীতে কেনা হয়েছে ১১ হাজার ৬৭১ দশমিক ৯২০ মেট্রিক টন। হবিগঞ্জে সেদ্ধ চাল কেনার চুক্তি হয়েছিল ৭ হাজার ৫৯৮ দশমিক ০২০ মেট্রিক টনের। এর বিপরীতে কেনা হয়েছে ৭ হাজার ৫৯৭ দশমিক ৯৭০ মেট্রিক টন। সিলেটে ৬ হাজার ৯০ মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল কেনার বিপরীতে কেনা হয়েছে ৬ হাজার ২ মেট্রিক টন। মৌলভীবাজারে ৪ হাজার ৬৭১ দশমিক ৩৯০ মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল কেনার বিপরীতে শতভাগ সংগৃহীত হয়েছে।

একই সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জে ৯ হাজার ৯৭৭ মেট্রিক টন আতপ চাল কেনার জন্য চুক্তি হয়েছিল। এর মধ্যে কেনা হয়েছে ৯ হাজার ৯৭৫ দশমিক ৫১০ মেট্রিক টন। সিলেটে ৩ হাজার ৮৮৬ মেট্রিক টন আতপ চালের বিপরীতে শতভাগ কেনা হয়েছে। হবিগঞ্জে ২ হাজার ২৫৩ মেট্রিক টন আতপ চাল কেনার জন্য চুক্তি হয়েছিল। এর বিপরীতে কেনা হয়েছে ২ হাজার ২৫২ দশমিক ৯৩০ মেট্রিক টন। মৌলভীবাজারে ২ হাজার ৫৭ দশমিক ১৯০ মেট্রিক টন আতপ চাল কেনার চুক্তি হয়েছিল। এর বিপরীতে কেনা হয়েছে ২ হাজার ৫৭ দশমিক ১৮০ মেট্রিক টন।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী বড় কৃষকদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৩ টন, মাঝারি কৃষকদের মধ্য থেকে ২ টন এবং ক্ষুদ্র কৃষকের কাছ থেকে ১ টন করে ধান কেনা হয় বলে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে একাধিক চালকলমালিক বলছেন, সরকারের বেঁধে দেওয়া দরের চেয়ে বাজারে তখন প্রতি কেজি চাল ৫০ পয়সা থেকে ৭৫ পয়সা বেশি ছিল। কিন্তু চাল না দিলে লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাঁরা বাধ্য হয়ে কম দামে গুদামে চাল সরবরাহ করেছেন। দাম কম থাকায় অনেকে চুক্তি অনুযায়ী চালও কম বিক্রি করেছেন।

সিলেট নগরের শেখঘাট এলাকার রূপসী বাংলা অটো রাইস মিলের ব্যবস্থাপক মো. আবদুল মালিক বলেন, তাঁরা ২৯ মেট্রিক টন আতপ চাল সরবরাহ করেছেন। সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে ৫০ পয়সা থেকে ৭৫ পয়সা বেশি দরে তখন প্রতি কেজি চাল বাজারে বিক্রি হচ্ছিল। আবার গুদামে নিয়ে চাল দেওয়ায় পরিবহন বাবদও তাঁদের অতিরিক্ত খরচ পড়েছে।

সিলেট সদর উপজেলার দুজন কৃষক জানিয়েছেন, ধানের বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকায় অনেক কৃষক গুদামে ধান দেননি। সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বাজারে ধানের দাম কেজি প্রতি কয়েক টাকা বেশি ছিল।

সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মাঈন উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সিলেটে ধান ও চালের অনেক ভালো সংগ্রহ হয়েছে। তবে তুলনামূলকভাবে ধান সংগ্রহের পরিমাণ কিছুটা কম। ধানের দাম বাইরে কিছুটা বেশি থাকায় কৃষকেরা বাইরে বিক্রি করেছেন। তবে আমাদের ধান কেনার বড় উদ্দেশ্যই হচ্ছে, বাজারে ধানের দাম কৃষকদের অনুকূলে রাখা। ধানের একটা দাম সরকারিভাবে নির্ধারিত হওয়ার কারণেই বাজারে ধানের দাম কৃষকের অনুকূলে ছিল। এটাই আমাদের বড় সফলতা।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন