সিলেট সিটি করপোরেশনের ৬২ এলাকার ১২৬টি স্থানে চালু করা হয়েছে ‘ফ্রি ওয়াই–ফাই’ সুবিধা। এর মধ্য দিয়ে সিলেট বাংলাদেশের প্রথম ‘ওয়াই–ফাই সিটি’ হিসেবে যাত্রা শুরু করল।

এ সেবা প্রাপ্তির ইউজার নেম ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ আর পাসওয়ার্ড ‘জয় বাংলা’। নগরে থাকা যে কেউ এ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। গত মঙ্গলবার থেকে এ সেবা চালু হয়েছে।

‘ডিজিটাল সিলেট সিটি’ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ সেবার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মধুসূদন চন্দ বলেন, প্রতিটি একসেস পয়েন্টে একসঙ্গে ৫০০ জন যুক্ত থাকতে পারবেন। এর মধ্যে একসঙ্গে ২০০ জন উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নগরের আম্বরখানা, জিন্দাবাজারসহ কিছু এলাকায় ‘ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপন’ নামের একটি প্রকল্পের কাজ চলছে। এ কারণে ২৬টি স্থানে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা সত্ত্বেও ‘ফ্রি ওয়াই–ফাই সুবিধা’ চালু করা যায়নি। উন্নয়নকাজ শেষ হলে দ্রুত ওয়াই–ফাই সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। তবে নগরের অপর ১০০টি স্থানে নগরবাসী বিনা মূল্যে ওয়াই–ফাই সেবা পাচ্ছে। তবে সেবাগ্রহণকারীরা যাতে নিষিদ্ধ ও অপ্রয়োজনীয় কোনো ওয়েবসাইটে ঢুকতে না পারেন, সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সিলেটকে দেশের প্রথম ডিজিটাল নগর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ‘ফ্রি ওয়াই–ফাই সুবিধা’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৭ জুন সিলেটে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ ‘ডিজিটাল সিলেট’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন। ‘ডিজিটাল সিলেট সিটি’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল এটি বাস্তবায়ন করছে।

একই সূত্রে জানা গেছে, আইসিটি বিভাগের তত্ত্বাবধানে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন হয়। এ কাজের অংশ হিসেবে সিলেটের ৬২টি এলাকার ১২৬টি স্থান এবং কক্সবাজার জেলা শহরের ৩৫টি এলাকার ৭৪টি স্থানে ফ্রি ওয়াই–ফাই জোন করা হয়। সিলেটের প্রকল্প উদ্বোধন হয় গত বছরের ২৭ জুন। অন্যদিকে কক্সবাজারে এ প্রকল্প উদ্বোধন হয় গত ১৫ ফেব্রুয়ারি। সে হিসাবে সিলেটই প্রথম দেশের ‘ওয়াই–ফাই সিটি’ হিসেবে যাত্রা শুরু করল। সিলেটের এই ওয়াই–ফাই জোনগুলো তদারকি করবে সিলেট সিটি করপোরেশন।

ফ্রি ওয়াই–ফাই সুবিধার আওতায় আসা উল্লেখযোগ্য এলাকা হলো চৌকিদেখি, দরগাগেট, চৌহাট্টা, বন্দরবাজার, হাসান মার্কেট, সুরমা ভ্যালি রেস্টহাউস, কিনব্রিজ, রেলওয়ে স্টেশন, বাস টার্মিনাল, কদমতলী, হুমায়ুন রশীদ চত্বর, উপশহর, টিলাগড়, শাহি ঈদগাহ, কুমারপাড়া, দক্ষিণ বালুচর, নাইওরপুল, মীরাবাজার, রায়নগর, সোবাহানীঘাট, ধোপাদিঘিরপাড়, নয়াসড়ক, কাজীটুলা, চৌহাট্টা, হাউজিং এস্টেট, সুবিদবাজার, মীরের ময়দান, পুলিশ লাইনস, রিকাবীবাজার। 

গতকাল রোববার দুপুরে রিকাবীবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কয়েকজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বিনা মূল্যে ওয়াই–ফাই সুবিধা গ্রহণ করছেন। মো. আনোয়ার হোসেন নামের চল্লিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি বলেন, ইউজার নেম আসার পর পাসওয়ার্ড দিলেও ইন্টারনেট সেবা অনেক সময়ই পাওয়া যায় না। হঠাৎ এ সেবা পাওয়া যায়। এ ভোগান্তি যেন না হয়, সে জন্য প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আরও নজরদারি দেওয়া প্রয়োজন রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, কেবল সেবা চালু হয়েছে। তাই কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইন্টারনেট সেবা পেতে সমস্যা হচ্ছে। তবে দ্রুতই এ সমস্যা কেটে যাবে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে এ কার্যক্রমের তদারকি করবে সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। আপাতত প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই এর দেখভাল করছেন। তাই এখনো এ কাজের দেখাশোনার ভার সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন