বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গতকাল বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, সাংসদ হাচানুরের বাড়িও কলেজ রোডেই। রাস্তার পশ্চিম পাশে সাংসদ নাদিরার বাড়ি। পূর্ব পাশে সাংসদ হাচানুরের বাড়ি। দুই সাংসদের বাড়ির মধ্যে ব্যবধান ৫০ গজ। স্থানীয় দুলাল হোসেনের পাঁচতলা ভবনের তিনতলায় সাংসদ হাচানুর ভাড়া থাকেন। বাসভবনটি ঘিরে তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সাংসদের বাসা লাগোয়া দক্ষিণ পাশে শাহিনের চা দোকানের সামনে বিদ্যুতের খুঁটিতে দুটি ক্যামেরা আছে। এর একটি সাংসদের, অপরটি স্থানীয় রাজা সাইকেল স্টোরের। সাংসদের সিসিটিভি ক্যামেরাটি নতুন বাজারের দিকে তাক করা। অপর দুটি ক্যামেরার একটি সাংসদের বাসভবনের দোতলার সিঁড়িতে এবং অপরটি পাথরঘাটা কলেজের প্রধান ফটকের উত্তর পাশে বিদ্যুতের খুঁটিতে বসানো রয়েছে। কলেজের সামনের সিসিটিভি ক্যামেরাটি সাংসদ নাদিরার বাসভবনের প্রবেশপথের দিকে তাক করা।

পাথরঘাটা কলেজ রোডের একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিন থেকে চার বছর আগে সাংসদ হাচানুরের পক্ষে ওই সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো লাগানো হয়েছিল। পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্যঘাট শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও তাঁর লোকজন ক্যামেরাগুলো স্থাপন করে দেন।

কয়েক বছর আগে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ে এখন অভিযোগ তুলছেন কেন, জানতে চাইলে সেলিম খলিফা প্রথম আলোকে বলেন, সম্প্রতি সিসিটিভি ক্যামেরাটি তাঁদের নজরে পড়েছে।

জিডিতে সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে নজরদারির বিষয়ে সাংসদ শওকত হাচানুর রহমানের কথা উল্লেখ নেই। তবে সাংসদ নাদিরার জ্যেষ্ঠ মেয়ে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফারজানা সবুর বলেন, ‘আমাদের বাসভবনে নজরদারির জন্য সিসিটিভি ক্যামেরাটি সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান বসিয়েছেন। এটি আমাদের পরিবারের সদস্যসহ একজন নাগরিকের গোপনীয়তা লঙ্ঘন। বিষয়টি আমাদের ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের জন্য বিব্রতকর।’

বরগুনা-২ আসনের প্রয়াত সাংসদ গোলাম সবুরের স্ত্রী সুলতানা নাদিরা। তিনি জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বাসভবনে কারা আসা-যাওয়া করেন, তা নজরদারি করতে গোপনে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এ নজরদারি আমার জন্য বিব্রতকর ও নিজস্ব গোপনীয়তা সুরক্ষার জন্য হুমকিস্বরূপ।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পাথরঘাটা কলেজে তরুণী হত্যাসহ শহরে প্রায় ১৫টি লাশ উদ্ধারের পরপর পাথরঘাটা কলেজের সামনে দুই দিকে ওই সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল। তবে ওই দুটি ক্যামেরাসহ শহরে অনেকগুলো ক্যামেরা তখন মোস্তাফিজুর রহমান লাগিয়েছিলেন। তবে কারও বাসা উদ্দেশ্য করে ওই সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়নি। তিনি দাবি করেন, ‘সাংসদ নাদিরা ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক। তাঁরা আমাকে বললেও আমি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারতাম।’

পাথরঘাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হোসেন বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে ওই সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়নি। একই কথা জানিয়েছেন পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল বাশার ও পাথরঘাটা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন