বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তাঁর পুরো নাম লুসি হেলেন ফ্রান্সিস হল্ট। তিনি স্বদেশ, স্বজনদের ভুলে বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের মায়ায় এখানেই ৬০ বছর ধরে রয়েছেন। তাঁর অন্তিম ইচ্ছা, চিরকালের মতো মিশে যেতে চান বাংলার প্রকৃতিতে। তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ গণভবনে ডেকে নিয়ে তাঁর হাতে তুলে দেন এ দেশের নাগরিকত্ব। তিনি বাংলা বলেন, বাঙালিদের মতো শাড়ি পরেন, বাঙালিদের সেবা করে যাচ্ছেন।

সিস্টার লুসির জন্ম ১৯৩০ সালের ১৬ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের সেন্ট হ্যালেন্সে। বাবা জন হল্ট ও মা ফ্রান্সিস হল্ট। দুই বোনের মধ্যে ছোট লুসি। তাঁর বড় বোন রুৎ অ্যান রেভা ফেলটন স্বামী ও তিন ছেলে নিয়ে ব্রিটেনেই বসবাস করেন। লুসি ১৯৪৮ সালে উচ্চমাধ্যমিক (দ্বাদশ) পাস করেন। তিনি ১৯৬০ সালে প্রথম বাংলাদেশে আসেন। যোগ দেন বরিশাল অক্সফোর্ড মিশনে। এখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের পড়াতেন। এরপর আর দেশে ফিরে যাননি। ৫৭ বছর ধরে বরিশাল ছাড়াও কাজ করেছেন যশোর, খুলনা, নওগাঁ, ঢাকা ও গোপালগঞ্জে।

বরিশাল অক্সফোর্ড মিশনের দক্ষিণ দিকটায় বারান্দার এক অংশে টিনের ছোট্ট ঘর, জরাজীর্ণ। ছোট্ট একটি কাঠের চৌকি, কাঠের দুটি টেবিল। শোবার চৌকিতে পাতলা তোশক বিছানো, একটি বালিশ আর কম দামের কম্বল। পাশে শেলফে কিছু বই ও পুরোনো ডায়েরি। এটাই সিস্টার লুসির থাকার জায়গা।

২০০৪ সালে অবসরে যান সিস্টার লুসি। ওই বছরই তিনি ফিরে আসেন বরিশালের অক্সফোর্ড মিশনে। এই অবসর জীবনেও দুস্থ শিশুদের মানসিক বিকাশ ও ইংরেজি শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি এসব শিশুর জন্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহের কাজ করেন।

বরিশাল অক্সফোর্ড মিশন গির্জার কনিষ্ঠ ফাদার জন হালদার প্রথম আলোকে বলেন, সিস্টার লুসি হল্টের অবস্থা স্থিতিশীল। তবে তাঁর চেতনা আছে। চিকিৎসকেরা যেকোনো উপায়ে তাঁর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী চেষ্টা চলছে।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, সিস্টার লুসি হল্টের চিকিৎসার ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন