বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্যিক) এস এম আশিকুর রহমান বলেন, সি-ট্রাকে যান্ত্রিক ত্রুটি হলে তা সারানোর দায়িত্ব জাহিদুর রহমানের।

জাহিদুর রহমান বলেন, যাত্রী পারাপারে খেয়াঘাটের ইজারাদার টোল আদায়ের নামে ব্যাপক চাঁদাবাজি করেন। এতে লাগাতার লোকসান হচ্ছে। পাশাপাশি যমুনা নদীতে নাব্যতাসংকট আছে। এ দুই কারণে ১৭ দিন ধরে কালীতলাঘাট ও জামথল ঘাটের মধ্যে সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ।

জাহিদুর রহমান অভিযোগ করেন, ঘাটে যাত্রী পারাপারে সরকার নির্ধারিত টোলের হার মাথাপিছু ৭ টাকা। অথচ ঘাটের ইজারাদার মাথাপিছু টোল আদায় করছেন ৪০ টাকা। একজন যাত্রীর কাছ থেকে সি-ট্রাকে ভাড়া আদায় করা হয় ১০০ টাকা। ৪০ টাকা ইজারাদার কেটে নেওয়ার পর ৬০ টাকায় যাতায়াত খরচই ওঠে না।

সি-ট্রাকের ইজারাদার এবং মাদারগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা জাহিদুর রহমান আরও বলেন, জামথল থেকে কালীতলা ঘাট পর্যন্ত একবার যমুনা পারাপারে সি-ট্রাকের জ্বালানি, মবিল, গিয়ার অয়েল, সারেংদের বেতন–ভাতাসহ খরচ হয় ১২ হাজার টাকা। বগুড়া জেলা পরিষদ থেকে খেয়াঘাট ইজারা নিয়েছেন সারিয়াকান্দি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক অর্থবিষয়ক সম্পাদক শাহাদৎ হোসেন। তিনি খেয়াঘাট জিম্মি করে ইচ্ছেমতো ভাড়ায় ইঞ্জিনচালিত নৌকায় যাত্রী পারাপার করেন।

ফলে এ নৌপথে সি-ট্রাক চলাচল করুক, তা তিনি চান না​। ইচ্ছা করেই সি-ট্রাকের যাত্রী নৌকায় তুলে দেন। এতে করে সি-ট্রাকে ২০০ যাত্রীর ধারণক্ষমতা হলেও গড়ে যাত্রী পারাপার হয় ১০০। ৬০ টাকা হারে যাত্রী পারাপারে এক খেপে ভাড়ায় আদায় হয় ৬ হাজার টাকা। প্রতি খেপে লোকসান হয় ৬ হাজার টাকা। প্রতিদিন লোকসান ১২ হাজার। এভাবে মাত্র এক মাস সি-ট্রাক চলাচলে লোকসান গুনতে হয়েছে চার–পাঁচ লাখ টাকা।

জাহিদুর রহমান দাবি করেন, ঘাটের ইজারাদারের বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে মাদারগঞ্জের সাংসদ মির্জা আজম এবং সারিয়াকান্দির সাংসদ সাহাদারা মান্নানের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার মেলেনি।

কালীতলা ও জামথল খেয়াঘাটে যমুনা পারাপারে আসা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ১২ আগস্ট কালীতলা ঘাট থেকে জামথল ঘাট রুটে যমুনা নদীতে সি-ট্রাক চালু হয়। ঢাকঢোল পিটিয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সি-ট্রাক চলাচলের উদ্বোধন করেন। কিন্তু উদ্বোধনের ১২ দিনের মাথায় ২৩ আগস্ট পুরোনো ইঞ্জিন বিকল হয়ে সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে শহীদ আবদুর রউফ সেরনিয়াবাত নামের সি-ট্রাকটি বিআইডব্লিউটিসির প্রকৌশলীরা এবং নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড থেকে কারিগরি দল এসে ইঞ্জিন সারানোর পর ৩১ আগস্ট এটি আবার চালু হয়। এক মাস না যেতেই ২৩ সেপ্টেম্বর আবার সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়।

কাজলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মোল্লা বলেন, সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় যমুনা নদীতে যাত্রী ও পণ্য পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে কালীতলা খেয়াঘাটের ইজারাদার শাহাদৎ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সি-ট্রাকে যাত্রী পারাপারে চাঁদাবাজির অভিযোগ ভিত্তিহীন। বগুড়া জেলা পরিষদ থেকে বেঁধে দেওয়া টোল হার অনুযায়ী, কালীতলা খেয়াঘাট থেকে জামথল ঘাট পর্যন্ত একজন যাত্রী পারাপারে ৪৯ টাকা পর্যন্ত আদায় করার এখতিয়ার রয়েছে। সেখানে আদায় করা হচ্ছে ৪০ টাকা।

ঘাটের ইজারাদারের দাবি, টোল আদায়ের কারণে নয়, পুরোনো লক্কড়-ঝক্কড় ইঞ্জিনের সি-ট্রাক দ্বিতীয় দফা বিকল হওয়ার কারণে যাত্রীসেবা বন্ধ আছে। চাঁদাবাজির কারণে বন্ধ আছে, এটা অজুহাত মাত্র।

জানতে চাইলে বগুড়া জেলা পরিষদের প্যানেল মেয়র সুলতান মাহমুদ খান বলেন, খেয়াঘাটে নদী পারাপারে যাত্রীদের মাথাপিছু ৭ টাকা টোল নেওয়ার কথা। কিন্তু সারিয়াকান্দি–কালীতলা ঘাটে ইজারাদার ইচ্ছেমতো হারে টোল আদায় করছেন বলে নানা সময়ে অভিযোগ এসেছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাসেল মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, সি-ট্রাকে যাত্রী পারাপারে ইচ্ছেমতো টোল আদায়ের বিষয়ে কেউ উপজেলা প্রশাসনে অভিযোগ করেননি। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন