বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে উপকূলীয় বন বিভাগের সীতাকুণ্ড রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা বিষয়টি জেনেছেন সন্ধ্যায়। অন্ধকার নেমে আসায় মৃত ডলফিনগুলো উদ্ধার করতে পারেননি। কাল (বৃহস্পতিবার) সকালে সেখানে লোক পাঠিয়ে ডলফিনগুলোকে মাটিচাপা দেওয়া হবে।

প্রত্যক্ষদর্শী সঞ্জয় শীল ও কৃষক মো. ইউসুফ বলেন, গত মঙ্গলবার বিকেলে উপকূলে ডলফিন তিনটি ভেসে আসে। বুধবার দুপুরের পর থেকে মৃত ডলফিনের শরীর পচে যাওয়ার গন্ধ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তাঁরা মৃত ডলফিনগুলোকে দ্রুত মাটিচাপা দেওয়ার দাবি জানান।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শামীম আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, তিনটি মৃত ডলফিন উপকূলে ভেসে আসার খবর তাঁরা পেয়েছেন। তাঁরা কাল বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে যাবেন ডলফিনগুলো কেন মারা গেল, তার কারণ জানতে। তবে বিবরণ শুনে তাঁর মনে হয়েছে, উজানে কোথাও জালে আটকা পড়ে ডলফিনগুলো মারা যেতে পারে। সেখান থেকে মৃত অবস্থায় সীতাকুণ্ডের উপকূলে ভেসে আসতে পারে।

এ নিয়ে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা, সীতাকুণ্ড ও আনোয়ারা সাগর উপকূল থেকে গত ১ মাসে ১৪টি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে। অল্প সময়ে এত বেশিসংখ্যক ডলফিন মারা যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মঞ্জুরুল কিবরীয়া প্রথম আলোকে বলেন, এখন কয়েক দিন পরপর ডলফিন মারা যাওয়ার খবর পাচ্ছেন তাঁরা। গত এক সপ্তাহে আটটি ইরাবতী ডলফিন মারা যাওয়ার ব্যাপারটা অস্বাভাবিক। এত দিন তাঁদের ধারণা ছিল, জালে আটকা পড়ে ইরাবতী ডলফিন মারা যাচ্ছে। কিন্তু জাল তো সারা বছর বসানো থাকে। তাহলে হঠাৎ ডলফিন মারা যাওয়ার সংখ্যা কেন বেড়ে গেল, সে বিষয়ে অনুসন্ধান করা উচিত।

মঞ্জুরুল কিবরীয়া আরও বলেন, এখনই কারণ খুঁজে বের করে সমাধান করা না গেলে সাগর ডলফিনশূন্য হয়ে যাবে। কারণ, একেকটা ডলফিন দুই থেকে আড়াই বছর পর বাচ্চা প্রসব করে। অথচ এক সপ্তাহে উদ্ধার হলো আটটি মৃত ডলফিন।
এ বিষয়ে বন বিভাগের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের চট্টগ্রামের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসাইন বলেন, ডলফিনগুলো সাধারণত জেলেদের জালে আটকা পড়ে মারা পড়ে। ডলফিন রক্ষা করতে হলে এগুলোর চলাচলের পথ জালমুক্ত রাখতে হবে। সাগরে টহল বাড়াতে হবে। কিন্তু তাঁদের জনবল কম হওয়ায় সেটা সম্ভব নয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন