বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিজিবির সুরইঘাট ক্যাম্প ও কানাইঘাট থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কানাইঘাটের লক্ষ্মীপ্রসাদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এরালিগুল গ্রামের আসকর আলী ওরফে আছই (২৫) ও আরিফ মিয়া (২২) বুধবার বেলা ১১টার দিকে ডোনা সীমান্ত এলাকার ভারত সীমান্ত অংশে অবস্থানকালে বিএসএফের গুলিতে মারা যান। তাঁদের গ্রামের কয়েক বাসিন্দা জানান, আসকর ও আরিফ মঙ্গলবার রাতে ডোনা সীমান্ত এলাকায় গিয়ে আর ফেরেননি। বুধবার সকালে কিছু লোক তাঁদের জানিয়েছেন, ওপারে বিএসএফের গুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন। লাশের ছবি মুঠোফোনে দেখে দুজনকে শনাক্ত করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ১৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল সুহেলের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি ফোন ধরেননি।

তবে ঘটনাস্থলে অবস্থান করা বিজিবির এক কর্মকর্তাসহ স্থানীয় ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত প্রথম দফায় পতাকা বৈঠক হয়। এরপর দুপুরের খাবারের বিরতি দিয়ে আবারও বৈঠক চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। যে স্থানে দুই বাংলাদেশির লাশ পড়ে আছে, সেটি সীমান্তের শূন্যরেখার (নো ম্যানস ল্যান্ড) কাছাকাছি। দুই বাংলাদেশিকে হত্যা করে সেখানে এনে ফেলে রাখা হয়েছে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে জানানো হয়। কিন্তু হত্যার দায় অস্বীকার করে বিএসএফ। লাশ দুটো বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রয়েছে বলে জানায়। এ জন্য পতাকা বৈঠক অমীমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়েছে। পতাকা বৈঠকের পর সন্ধ্যায় বিজিবি ও বিএসএফ ডোনা সীমান্ত এলাকায় পাহারা বাড়িয়েছে।

এদিকে দুই দিনেও লাশ উদ্ধার না হওয়ায় সীমান্ত এলাকার আশপাশ এলাকার গ্রামগুলোর মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। দুটি বাজারে বিকেলে ও সন্ধ্যায় দুই দফা বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী দ্রুত লাশ উদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছেন।

লক্ষ্মীপ্রসাদ ইউপির চেয়ারম্যান ফয়াজ উদ্দিন জানান, বাংলাদেশ অভ্যন্তর থেকে দুটো লাশ পড়ে থাকা অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। এ দৃশ্যটি অমানবিক দেখাচ্ছে। তাই সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। তাঁরা চেষ্টা করছেন সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রাখতে। পুলিশকেও নজর রাখতে বলেছেন।

শুক্রবার সকালে আবার পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হতে পারে জানিয়ে নাম প্রকাশ না করার শতে৴ বিজিবির একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, বৈঠকে মরদেহ দুটি যে স্থানে পড়ে আছে, সেই স্থান কোন দেশে পড়েছে তা চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত হয়। মরদেহ ভারতের অভ্যন্তরে থাকলে সে দেশে ময়নাতদন্ত হবে। এরপর আরেক দফা পতাকা বৈঠক করে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এতে মরদেহ উদ্ধার ও হস্তান্তরে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে।

কানাইঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘লাশ উদ্ধার হলে মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত হবে। বিজিবি ও বিএসএফ যৌথভাবে মরদেহ উদ্ধারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে বলে আমরা আশা করছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন