default-image

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় সুদের টাকার জন্য এক নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ বুধবার নির্যাতনের সেই ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের হাফালিয়া কাটা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

১ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তার ধারে এক নারীকে তাঁর শাড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখেছেন এক যুবক। এরপর তিনি তাঁর চুলের মুঠি ধরে তাঁকে মারধর করছেন এবং কিল-ঘুষি মারছেন। কিছুক্ষণ পর ওই যুবকের মা হাতে লাঠি নিয়ে এসে ওই লাঠি দিয়ে নারীকে গুঁতা দেন। পরে দুজন নারী এগিয়ে এসে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা নারীকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ভিডিওটির পুরো সময় জুড়ে ওই নারীর দেড় বছর বয়সী সন্তানকে মায়ের আঁচল ধরে কাঁদতে দেখা যায়।

আজ বুধবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে নির্যাতনের শিকার ওই নারীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর এই প্রতিনিধির। ওই নারী বলেন, এক বছর আগে হাফালিয়া কাটা এলাকার জহির আহমদের ছেলে মো.শওকতের কাছ থেকে চার হাজার টাকা ঋণ নেন তিনি। এই ৪ হাজার টাকার বিনিময়ে ১০ হাজার টাকা চান শওকত। ইতিমধ্যে তিনি আট হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। বাকি দুই হাজার টাকা গত বৃহস্পতিবারে দেওয়ার কথা ছিল। টাকা না থাকায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় নেন। তিনি আরও বলেন, গতকাল বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে শওকত তাঁকে টাকা পরিশোধ করতে শাসান। একপর্যায়ে টেনেহিঁচড়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে তাঁকে নির্যাতন করেন।

বিজ্ঞাপন

ওই নারীর ভাষ্য, তাঁর স্বামী টিউবওয়েল–মিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেন। এক বছর আগে তাঁর স্বামী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। হাতে যা ছিল তা খরচের পর আরও কিছু টাকার প্রয়োজন হয়। ওই সময় শওকতের কাছ থেকে চার হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। আট হাজার টাকা শোধ করার পরও বাকি দুই হাজারের জন্য শওকত তাঁকে নির্যাতন করেছেন।

বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘সুদের টাকার জন্য এভাবে নির্যাতন মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনাটি আমি পুলিশকে জানিয়েছি। শওকতকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যেন আর কেউ এমন সাহস না দেখায়।’

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকের মুহাম্মদ যুবায়ের বলেন, ভিডিওটি দেখার পরপরই পুলিশ অভিযান চালায়। ওই সময় শওকতের বাবা জহির আহমদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। শওকতকেও পুলিশ গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। তবে এখন পর্যন্ত ওই নারী এ বিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ দেননি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন