default-image

সুনামগঞ্জে নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে উদ্ধার করা গলায় রশি প্যাঁচানো রক্তাক্ত লাশটি স্কুলছাত্র অনিক চন্দ্র ব্রহ্মর। সে সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র। এবার সে এসএসসি বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী ছিল।

অনিকের পরিবার পৌর শহরের পশ্চিম নতুনপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকত। সে প্রদীপ চন্দ্র ব্রহ্ম ও অঞ্জনা রানী পাল দম্পতির ছেলে। তাদের গ্রামের বাড়ি জেলার তাহিরপুর উপজেলার তেলিগাঁও গ্রামে। কয়লা ব্যবসায়ী প্রদীপ সন্তানদের লেখাপড়ার জন্যই শহরে এসে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।

রোববার বিকেলে পৌর শহরের কোর্ট এলাকায় নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনের নিচতলায় এক কিশোরের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখে সেখানে থাকা লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। গলায় প্যাঁচানো ছিল রশি।

অনিকের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোববার বেলা একটায় বাসা থেকে বের হয় অনিক। বিকেলে না ফেরায় বাড়ির লোকজন ভাবেন, সে হয়তো দোল পূর্ণিমার কোনো আয়োজনে কোথাও গেছে। কিন্তু রাতেও না ফেরায় দুশ্চিন্তায় অস্থির হয়ে যান তাঁরা। সোমবার ভোর থেকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সকালে খবর পাওয়া যায়, পুলিশ রোববার বিকেলে নতুন কোর্টের একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে। পরে তারা হাসপাতালে গিয়ে অনিকের লাশ দেখেন।

বিজ্ঞাপন

অনিকের বাবা প্রদীপ বলেন, তিনি চার ছেলের লেখাপড়ার জন্য শহরে এসে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছেন। অনিক শহরের অলিগলি-রাস্তাঘাটই ভালো করে চেনে না। কারও সঙ্গে তাঁর বা তাঁর ছেলের কোনো বিরোধ নেই। তিনি বুঝতে পারছেন না কারা, কেন এমন নির্মমভাবে তাঁর ছেলেকে হত্যা করেছে।

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, অনিকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সহিদুর রহমান জানান, ‘রোববার বিকেলে অজ্ঞাত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। সোমবার পরিচয় মিলেছে। পরিবারের লোকজনই তার পরিচয় শনাক্ত করেছেন। ছেলেটি স্কুলছাত্র। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। থানায় এখনো মামলা হয়নি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন