default-image

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় স্থানীয় এক সাংবাদিককে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশ চারজনকে আটক করেছে। এদিকে ওই ঘটনার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে জেলা শহরে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকেরা। তাঁরা ঘটনায় জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

পুলিশ জানায়, সাংবাদিককে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গতকাল সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে ঘাগটিয়া গ্রামের ফয়সল আহমদ (১৯), আনারুল ইসলাম (২০), তাহির হোসেন (২০) ও মাসিবুল ইসলামকে (২৬) আটক করা হয়েছে। তাহিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দীপঙ্কর বিশ্বাস এ খবর নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।

পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাদুকাটা নদীর তীর কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সংবাদের জন্য তথ্য সংগ্রহ ও ছবি নিতে গতকাল দুপুরে ওই এলাকায় যান স্থানীয় সাংবাদিক কামাল হোসেন। সেখানে ঘাঘটিয়া গ্রামের মাহমুদ আলী শাহসহ কয়েকজন লোক তাঁকে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ওই ব্যক্তিরা তাঁকে ধরে নিয়ে যান পার্শ্ববর্তী চকবাজারে। সেখানে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে তাঁকে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে বেলা আড়াইটার দিকে স্থানীয় আরেকজন সাংবাদিক ও কামাল হোসেনের পরিবারের লোকজন এলাকার বাদাঘাট ফাঁড়ি থেকে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য প্রথমে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কামাল হোসেন দৈনিক সংবাদ এবং সিলেট থেকে প্রকাশিত দৈনিক শুভ প্রতিদিনের তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।
বিজ্ঞাপন
default-image

নির্যাতনে কামাল হোসেনের মুখ, মাথা, কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান রক্তাক্ত জখম হয়েছে। বর্তমানে তিনি সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। কামাল হোসেন দৈনিক সংবাদ এবং সিলেট থেকে প্রকাশিত দৈনিক শুভ প্রতিদিনের তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।

তবে মাহমুদ আলীর ভাষ্য, তাঁরা নন, শ্রমিকেরা তাঁকে মারধর করেছেন। মাহমুদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, নদীর বালুকোয়ারি সরকারিভাবে বন্ধ। এখন এলাকার গরিব-দিনমজুর লোকজন টুকরি দিয়ে বালু তুলে জীবিকা নির্বাহ করেন। কামাল গিয়ে তাঁদের কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি প্রশাসন ও পুলিশ ম্যানেজ করবেন। তাঁকে টাকা না দিলে নাকি লোকজন এসব কাজ করতে পারবে না। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে শ্রমিকেরা তাঁকে কিছু মারধর করেছেন।

তবে এ বিষয়ে সাংবাদিক কামাল হোসেন বলেন, ‘অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার ছবি তুলতে গিয়েই হামলার শিকার হয়েছি আমি। ঘাগটিয়া গ্রামের মাহমদ আলীর নেতৃত্বেই হামলা হয়েছে। এখন নিজেদের বাঁচাতে হামলাকারীরা নানা কথা বলছে। আমি কারও কাছে টাকা দাবি করিনি।’

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ বেলা ১১টায় জেলা শহরের আলফাত স্কয়ারে মানববন্ধন করেছে সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটি। মানববন্ধনে চলাকালে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি পঙ্কজ দে, সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি বিন্দু তালুকদার, সহসভাপতি আকরাম উদ্দিন, কুলেন্দু শেখর দাস ও ফরিদ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক বুরহান উদ্দিন, কার্যকরী সদস্য মাহবুবুল আলম, আসাদ মনি প্রমুখ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন